সাহিত্যের নানা রূপ, সাহিত্যের রূপ বুঝি

সাহিত্যের নানা রূপ, সাহিত্যের রূপ বুঝি। ষষ্ঠ শ্রেণির প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জন্য আজ আলোচনা করব বাংলা বিষয়ের ৬ষ্ঠ অধ্যায়ের ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ থেকে সাহিত্যের নানা রূপ, সাহিত্যের রূপ বুঝি ও সাহিত্যের প্রতিটি রূপের বৈশিষ্ট্য।

সাহিত্যের নানা রূপ

কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ, নাটক—এগুলো সাহিত্যের ভিন্ন ভিন্ন রূপ। প্রতিটি রূপের বৈশিষ্ট্য আলাদা। নিচের ছকে তুলনা করার জন্য কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করা আছে। টিকচিহ্ন অথবা ক্রসচিহ্ন দেওয়ার মাধ্যমে তোমরা ছকটি পূরণ করো। এর ফলে সাহিত্যের বিভিন্ন রূপ তোমাদের কাছে স্পষ্ট হবে।

ক্রমবৈশিষ্ট্যকবিতাগানগল্পপ্রবন্ধনাটক
মিলশব্দxxx
তালxxx
নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যে র লাইনxxx
সুরxxx
পদ্য-ভাষাxxx
গদ্য-ভাষাxx
কাহিনিxxx
চরিত্রxxx
বিষয়
১০অনুচ্ছেদxxx
১১সংলাপxxx
১২অভিনয়xxx

সাহিত্যের রূপ বুঝি

উপরের ছকটি পূরণের মাধ্যমে কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ, নাটক—এগুলোর যেসব বৈশিষ্ট্য পেয়েছ, তার ওপর ভিত্তি করে নিচে এগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি লেখো।

সাহিত্যের নানা রূপ, সাহিত্যের রূপ বুঝি

উপরের ছকটি পূরণের মধ্য দিয়ে আমরা কবিতা,গান,গল্প, প্রবন্ধ,নাটক- এগুলোর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তার উপর ভিত্তি করে এগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হল—

কবিতা

মনের ভাব সুন্দর ভাষায় ছোট বাক্যে যখন প্রকাশিত হয়,তখন তাকে কবিতা বলে।কবিতায় সাধারণত পরপর দুই লাইনের শেষে মিল— শব্দ থাকে। কবিতা তালে তালে পড়া যায়। কবিতার লাইনগুলো নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের হয়। কবিতার ভাষা গদ্যের ভাষার চেয়ে আলাদা। অনেক শব্দের চেহারাও কিছু পরিবর্তন হয়ে থাকে। যারা কবিতা লেখেন তাদের কবি বলে।

গান

কোন একটি ভাব বা বিষয় নিয়ে গান রচিত হয়। যিনি গান রচনা করেন তাকে গীতিকার বলে। আর যিনি গানের সুর দেন তাকে সুরকার, যিনি গান গেয়ে শুনেন তাকে গায়ক বা কণ্ঠশিল্পী বলে। কবিতার মতো গান তাল দিয়ে পড়া যায়।গানের শেষের শব্দের সঙ্গে পরবর্তী চরণের শেষ শব্দের অন্তমিল মিল থাকে। তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট মিল গানের মধ্যে বারবার ফিরে আসে।কবিতা আবৃত্তি করা হয় আর গান গাওয়া হয়।গানের সুর ও তাল ঠিক রাখার জন্য নানা বাদ্যযন্ত্রের প্রয়োজন হয়।

গল্প

গল্প এক ধরনের গদ্য রচনা। যেখানে কাহিনী থাকে, চরিত্র থাকে।গল্পের কাহিনী সাধারণত ঘটনার থেকে একটু ভিন্ন হয়।এর কাহিনী বাস্তব জীবনে ঘটে এমন হতে পারে আবার কল্পিত হতে পারে। এদিক থেকে গল্প দুই ধরনের। বাস্তব এর সাথে সম্পর্ক আছে এমন গল্প এবং কল্পনিক বিষয় নিয়ে রচিত গল্প।গল্প বইয়ের মত বড় হয় না।অনেকগুলো গল্প নিয়ে একটা বই হতে পারে।যারা গল্প লেখেন তাদের গল্পকার বলে।

প্রবন্ধ

গদ্য ভাষার আলোচনাকে প্রবন্ধ বলে।প্রবন্ধ অনেক রকমের হয়। যেমন: বিতরণমূলক প্রবন্ধ, তথ্যমূলক প্রবন্ধ, বিশ্লেষণমূলক প্রবন্ধ।প্রবন্ধ অনেকগুলো অনুচ্ছেদে বিভক্ত থাকে। অনুচ্ছেদ গুলো পরস্পরের সম্পর্কযুক্ত হয়। কি বিষয়ের আলোচনা হবে তার ইঙ্গিত থাকে। অনুচ্ছেদের শেষের দিকে লেখক এর মতামত বা সিদ্ধান্ত থাকে। যারা প্রবন্ধ লেখেন তাদের প্রাবন্ধিক বলে।

নাটক

অভিনয়ের উপযোগী করে লেখা সংলাপ নির্ভর রচনাকে নাটক বলে। নাটকের একজন অন্যজনের সাথে যেসব কথা বলে সেগুলোকে সংলাপ বলে।আর সংলাপ যাদের মুখ দিয়ে বের হয় তাদের চরিত্র বলে। সংলাপের মাধ্যমে নাটকের কাহিনী এগিয়ে যায়। নাটকে বিভিন্ন ভাগ থাকে একে দৃশ্য বলে। নাটকে যেখানে অভিনয় করা হয় সেই জায়গাকে বলে মঞ্চ। যারা নাটক লেখেন তাদের নাট্যকার বলে। নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে যারা অভিনয় করে তাদের অভিনেতা বলে।

আরো দেখুন

এছাড়াও সকল বিষয়ের নমুনা উত্তর সমূহ পাওয়ার জন্য আমাদের ফেসবুক গ্রুপ জয়েন করে নাও ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করো এবং ফেসবুক পেজটি লাইক এবং ফলো করে রাখুন। তোমার বন্ধুকে বিষয়টি জানানোর জন্য আমাদের ওয়েবসাইটটি তার খাতায় নোট করে দিতে পারো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: এই কনটেন্ট কপি করা যাবেনা! অন্য কোনো উপায়ে কপি করা থেকে বিরত থাকুন!!!