সাত ভাই চম্পা পড়ে কী বুঝলাম

সাত ভাই চম্পা পড়ে কী বুঝলাম? ষষ্ঠ শ্রেণির প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জন্য আজ আলোচনা করব বাংলা বিষয়ের পঞ্চম অধ্যায় বুঝে পড়ি লিখতে শিখি পঞ্চম পরিচ্ছেদের কল্পনানির্ভর লেখা সাত ভাই চম্পা এর প্রথম কাজ পড়ে কী বুঝলাম

এই কাজে শিক্ষক তোমাদেরকে গল্পটি পড়ার পর সাত ভাই চম্পা পড়ে কী বুঝলাম সে বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্ন করবেন। এগুলো তোমরা দলে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে।

কল্পনানির্ভর লেখা বলতে কি বুঝি?

কল্পনানির্ভর লেখা হল এমন একটি লেখার ধরন যেখানে লেখক কল্পনার সাহায্যে এমন একটি জগত তৈরি করেন যা বাস্তব জগতের মতো নয়। কল্পনানির্ভর লেখায় লেখক নিজের সৃজনশীলতা ব্যবহার করে নতুন চরিত্র, নতুন স্থান এবং নতুন পরিস্থিতি তৈরি করেন।

কল্পনানির্ভর লেখা একটি বিনোদনমূলক লেখার ধরন। এটি ব্যক্তিকে অন্য জগতে ভ্রমণ করতে এবং নতুন অভিজ্ঞতা করতে দেয়। কল্পনানির্ভর লেখা ব্যক্তিকে নিজের চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতিগুলিকে প্রকাশ করতেও সাহায্য করতে পারে।

এমন কিছু গল্প আছে যেগুলোর মধ্যে অনেক ঘটনা বাস্তবের সাথে মেলে না। এগুলোকে কাল্পনিক গল্প বা কল্পকাহিনি বলে। কল্পকাহিনি পড়তে বা শুনতে আমাদের ভালো লাগে, অনেক কিছু জানাও যায়। নিচের তিন ধরনের কল্পকাহিনির পরিচয় দেওয়া হলো

  • রূপকথা : রূপকথা এক ধরনের শিশুতোষ গল্প, যেখানে মানুষের পাশাপাশি রাক্ষস-দৈত্য, ডাইনি-পরি, ভূত-পেত্নী ইত্যাদি কাল্পনিক চরিত্র থাকে।
  • উপকথা: মূলত পশু-পাখি নিয়ে রচিত গল্পকে উপকথা বলে। উপকথার পশু-পাখিরা মানুষের মতো আচরণ করে।
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি : বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে লেখা কাল্পনিক গল্পকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি বলে।

বাংলাদেশের মানুষের মুখে মুখে অনেক রূপকথা চালু আছে। দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রূপকথা সংগ্রহ করে কয়েকটি বই লিখেছেন। তার লেখা এরকম একটি বইয়ের নাম ঠাকুরমার ঝুলি এই বইয়ের একটা গল্প হল সাত ভাই চম্পা।

সাত ভাই চম্পা পড়ে কী বুঝলাম

সাত ভাই চম্পা পড়ে কী বুঝলাম

১. ‘সাত ভাই চম্পা’ রচনাটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

ক. আগে এ ধরনের আর কোনো গল্প পড়েছ?আমি এ ধরনের গল্প পূর্বে পড়েছি। পূর্বে তৃতীয় শ্রেণীর ‘রাজা ও তার তিন কন্যা’ গল্পটি পড়েছি এবং পঞ্চম শ্রেণীতে পড়েছি ‘কাঞ্চনমালা আর কাঁকনমালা’ গল্পটি। এছাড়াও রূপকথার গল্প, সিন্দাবাদ এর কাহিনী, আলিফ-লায়লার কাহিনী, ঠাকুরমার ঝুলি ইত্যাদি।
খ. সাত ভাই চম্পা গল্পে কী কী চরিত্র আছে?সাত ভাই চম্পা গল্পের চরিত্রগুলো হলো: ছোটো রানি, রাজা, তার সাথে ছয় রানি (বড়ো রানি, মেজো রানি, সেজো রানি, নোয়া রানি, কনে রানি, দুয়ো রানী), ছোট রানির সাত পুত্র ও এক কন্যা, মালি, পাইক, বেহারা।
গ. এখানকার কোন কোন ঘটনা বাস্তবে হয় না?রূপকথার গল্প কখনোই বাস্তবের সাথে মিলে না। যেমন : ব্যাঙের ছানা, ইঁদুরের ছানা। ব্যাঙ আর কাঁকড়া কখনো প্রসব করতে পারে না। আর আঁতুড়ঘরে যাদের হাঁড়ি সরায়ে পুঁতে ফেলা হয়েছে তারা ফুল গাছি হলো। পরবর্তী সময় তারা মালির সাথে, রানির সাথে, রাজার সাথে কথা বলে অনেক উঁচুতে উঠে যেতে লাগলো। এসব বিষয় অসম্ভব। আর ছোটো রানিকে দেখা মাত্র সাতটি চাঁপাফুল সাত রাজকুমার আর পারুল ফুল রাজকন্যা রানির সাথে রাজপুরীতে গেল। এগুলো কখনোই বাস্তবে সম্ভব নয়।
ঘ. এখানকার কোন কোন ঘটনা বাস্তবেও ঘটতে পারে?বর্তমান সময়ে কারো একাধিক স্ত্রী থাকতে পারে। কারো সন্তান নাও হতে পারে। একসাথে একাধিক সন্তানও প্রসব করতে পারে। মানুষ মানুষকে হিংসা করতে পারে। রাজার মত কারো মনে দুঃখ থাকতে পারে।
ঙ. এই গল্প পড়ে আমরা কী বুঝলাম?এই গল্প পড়ে আমরা বুঝলাম সত্য কখনো চাপা থাকে না। সত্যের জয় অবশ্যই হয়। আর মিথ্যাবাদীর সাজা হয়। হিংসা করা ভালো নয়। হিংসা নিজের অমঙ্গল ডেকে আনে।
গল্পটিতে সাত ভাইয়ের সাহস, বুদ্ধিমত্তা এবং চম্পার সৌন্দর্য ও গুণাবলীকে তুলে ধরা হয়েছে।
সাত ভাই চম্পা গল্পটি থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। এই গল্পটি থেকে আমরা শিখতে পারি যে, সত্য, বিচার ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করা উচিত। এই গল্পটি থেকে আমরা শিখতে পারি যে, ভালোবাসা সবকিছুকে জয় করতে পারে। এই গল্পটি থেকে আমরা শিখতে পারি যে, পরিবারের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা উচিত।

সাত ভাই চম্পা গল্পটি বাংলার সাহিত্যের একটি অমূল্য সম্পদ। এই গল্পটি আমাদেরকে শিক্ষা, বিনোদন এবং অনুপ্রেরণা দেয়। এই গল্পটি আমাদেরকে আমাদের জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলতে সাহায্য করে।

সাত ভাই চম্পা গল্পটি থেকে আমরা যেসব শিক্ষা পেতে পারি, সেগুলি হল:

১. সত্য, বিচার ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করা উচিত।
২. ভালোবাসা সবকিছুকে জয় করতে পারে।
৩. পরিবারের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা উচিত।
৪. সাহসী হওয়া উচিত।
৫. বুদ্ধিমান হওয়া উচিত।
৬. পরিশ্রমী হওয়া উচিত।
৭. কঠোর পরিশ্রম করলে সবকিছুই সম্ভব।
৮. সৎ হওয়া উচিত।
৯. নীতিবান হওয়া উচিত।
১০. সদয় ও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত।

সাত ভাই চম্পা গল্পটি আমাদেরকে জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলতে সাহায্য করে। এই গল্পটি আমাদেরকে শিক্ষা, বিনোদন এবং অনুপ্রেরণা দেয়।
সাত ভাই চম্পা পড়ে কী বুঝলাম

২. ‘সাত ভাই চম্পা’ গল্পে লেখক যা বলেছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।

সাত ভাই চম্পা গল্পে বর্ণিত এক রাজার সাত রানি। রাজার কোন সন্তান নেই। তার মৃত্যুর পর কে রাজ্যভার নেবে এ নিয়ে রাজা চিন্তিত থাকেন। রাজার ছোট রানি শান্ত ধীরস্থির হওয়ায় তাকে বিশেষভাবে পছন্দ করেন। একদিন খবর এলো ছোট রানি পুত্র সন্তানের জননী হবেন। রাজার মনে আনন্দ ধরে না। তিনি রাজ্যের ভান্ডার খুলে দিলেন। রাজা ছোট রানির প্রসব কালীন সময়ে সোনার শিকল বেঁধে দিলেন। বলে দিলেন সন্তান হলে শিকল নেড়ে খবর দিতে।

বড় রানিরা ছোট রানর আঁতুড়ঘরে গিয়ে দুই বার অকারণে শিকল নাড়া দিলেন। অকারনে শিকল নাড়া দেওয়ায় রাজা খুব রেগে গেলেন। ছোট রানির সাতটি ফুটফুটে পুত্র ও একটি কন্যা হয়। বড় রানিরা হিংসা করে ছোট রানি সাত ছেলে ও এক কন্যাকে চুপিচুপি ভেতরে ঢুকিয়ে ঢুকিয়ে পাঁসগাদার পুঁতে রাখে।

তারপর বড় রানি ছোট রানিকে বলে বলে যে কয়েকটি ইঁদুর, ব্যাঙ, কাঁকড়া হয়েছে। আর এগুলো রাজাকে দেখানো হয়। রাজা রেগে ছোট রানিকে মহল থেকে বের করে দেন। এতে ছোট রানির দুঃখের সীমা থাকে না। সে ঘুঁটেকুরানি হয়ে জীবনযাপন করে। অন্যদিকে পথের কাঁটা দূর হওয়ায় বড়রানিদের খুশির অন্ত নেই।

কিন্তু রাজ্যজুড়ে বিষাদের কালো ছায়া ছড়িয়ে পড়ে। রাজার মনে সুখ নেই। রাজ্যে কোন শান্তি নেই। রাজ্যের বাগানে ফুল ফুটেনা। তবে পাঁসগাদায় চাঁপা ফুল ও পারুল ফুল ফুটে। মালি এই বিষয়টি রাজাকে জানালে রাজা তাকে সেখান থেকে ফুল সংগ্রহ করতে বলে। মালি ফুল তুলতে গেলে ফুল গাছ উপরে উঠে যায় এবং রাজা কে আসতে বলে।

এ ঘটনা শুনে রাজা নিজে বাগানে এসে ফুল তুলতে চাইলে বড় রানিকে আসতে বলে। তারপর এক এক করে রাজার ছয় রানি ফুল তুলতে গেলে একই হয়। শেষে সাতটি চাঁপা গাছ এবং একটি পারুল গাছ জানায় যে, রাজার ঘুঁটে দাসি এলে তারা ফুল তুলতে দিবে। তখন ছোট রানি ঘুঁটেকুড়ানি দাসিকে রাজার পাইক-পেয়াদারা খুঁজে নিয়ে আসে। তখন চাঁপা ও পারুল গাছ থেকে চাঁদের মত সাত রাজকুমার ও এক কন্যা ছোট রানীর কোলে-কাখে ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাজার কাছে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হয়।

কল্পকাহিনি সম্পর্কে আরো জেনে নিই-

কল্পকাহিনি হল এমন একটি গল্প যা বাস্তব জগতের বাইরে ঘটে। এটিতে অলৌকিক ঘটনা, অতিপ্রাকৃত প্রাণী বা স্থান থাকতে পারে। কল্পকাহিনিগুলি সাধারণত বিনোদনমূলক হয়, কিন্তু এগুলি শিক্ষামূলকও হতে পারে। কল্পকাহিনিগুলি আমাদেরকে অন্য জগতে ভ্রমণ করতে এবং নতুন অভিজ্ঞতা করতে দেয়। এগুলি আমাদেরকে আমাদের নিজের চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতিগুলিকেও প্রকাশ করতে সাহায্য করতে পারে।

কল্পকাহিনিগুলিকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করা যেতে পারে, যেমন-

  • বিজ্ঞান কল্পকাহিনি: বিজ্ঞান কল্পকাহিনিগুলিতে বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং এর প্রভাবগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  • ফ্যান্টাসি: ফ্যান্টাসি কল্পকাহিনিগুলিতে অলৌকিক ঘটনা, অতিপ্রাকৃত প্রাণী বা স্থান থাকে।
  • হরর: হরর কল্পকাহিনিগুলিতে ভয়ঙ্কর ঘটনাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  • রোমান্টিক: রোমান্টিক কল্পকাহিনিগুলিতে প্রেম এবং রোমান্সকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  • থ্রিলার: থ্রিলার কল্পকাহিনিগুলিতে উত্তেজনা এবং রোমাঞ্চকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কল্পকাহিনিগুলি একটি জনপ্রিয় সাহিত্যিক ধারা। এগুলিকে বই, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং ভিডিও গেমগুলিতে দেখা যায়। কল্পকাহিনিগুলি আমাদেরকে বিনোদন দেয়, শিক্ষা দেয় এবং আমাদেরকে অন্য জগতে ভ্রমণ করতে দেয়।

লেখক সম্পর্কে জেনে নিই অজানা কিছু তথ্য-

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার (১৮৭৭-১৯৫৭) ছিলেন একজন বিখ্যাত বাঙালি শিশু সাহিত্যিক। তিনি ১৮৭৭ সালের ১৫ই এপ্রিল ঢাকা জেলার সাভারের উলাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৭ সালের ৩০শে মার্চ কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের পিতা রমদারঞ্জন মিত্র মজুমদার এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী। তিনি ১৮৯৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং ১৯০০ সালে এমএ পাস করেন। তিনি ১৯০১ সালে ব্রাহ্মসকলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯০৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার বাংলা ভাষায় শিশু সাহিত্য রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম শিশু পত্রিকা “শিশু-সাথী” (১৯০৩) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাংলা ভাষায় অসংখ্য শিশুতোষ গল্প, উপন্যাস, কবিতা এবং নাটক রচনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য রচনাগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • ঠাকুরমার ঝুলি (১৯০৭)
  • ঠাকুরদাদার ঝুলি (১৯১০)
  • ঠানদিদির থলে (১৯১১)
  • সাত ভাই চম্পা (১৯১২)
  • সোনার তরী (১৯১৩)
  • ধানসিড়ি নদী (১৯১৪)
  • রাজকুমারী (১৯১৫)
  • সোনার তরী (১৯১৬)
  • দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের কবিতা (১৯১৭)
  • দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের নাটক (১৯১৮)

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের রচনাগুলি বাংলা ভাষায় শিশু সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। তার রচনাগুলি বাংলা ভাষায় শিশু সাহিত্যের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তার রচনাগুলি বাংলা ভাষায় শিশুদের মধ্যে শিক্ষা, বিনোদন এবং অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দিয়েছে।

আরো দেখুন-

এছাড়াও সকল বিষয়ের নমুনা উত্তর সমূহ পাওয়ার জন্য আমাদের ফেসবুক গ্রুপ জয়েন করে নাও ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করো এবং ফেসবুক পেজটি লাইক এবং ফলো করে রাখুন। তোমার বন্ধুকে বিষয়টি জানানোর জন্য আমাদের ওয়েবসাইটটি তার খাতায় নোট করে দিতে পারো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: এই কনটেন্ট কপি করা যাবেনা! অন্য কোনো উপায়ে কপি করা থেকে বিরত থাকুন!!!