সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়

আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হই, যার অনেক কিছুই উপযুক্ত তথ্যের মাধ্যমে আমরা সমাধান করতে পারি। ডিজিটাল প্রযুক্তি বিষয়ের শুরুতেই আমরা আমাদের আশেপাশের কিছু সমস্যা খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো এবং সে সমস্যাগুলো কীভাবে উপযুক্ত তথ্যের মাধ্যমে সমাধান করা যায় সেটিও অনুসন্ধান করে অন্যদের সচেতন করবো।

সেশন- ১ : খুঁজে বের করি একটি দৈনন্দিন সমস্যা

সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়
সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়
সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়

সমস্যা দেখে না পাই ভয়। গত এক সপ্তাহে তুমি কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছ তা তোমার পাশের বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করো এবং সবাই মিলে ১০টি সমস্যা চিহ্নিত করো। আমরা বলছিলাম তথ্যের মাধ্যমে আমরা আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করব। তাহলে প্রথমে আমরা তথ্য কী, তথ্যের উৎস কী এবং তথ্য অনুসন্ধানের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

তোমার নাম, তোমার বয়স, তোমার উচ্চতা, তুমি কোন বিদ্যালয়ে পড়ো, কোন শ্রেণিতে পড়ো এই সব কিছুই হচ্ছে তথ্য। তোমার চারপাশে তাকিয়ে দেখো। সবাই তোমার বন্ধু কিন্তু তোমাদের মধ্যে কিছু মিল যেমন আছে, তেমনি কিছু অমিলও আছে। চলো আমরা ঝটপট কিছু তথ্য বের করে ফেলি।

তোমার সুবিধার জন্য নিচে একটি সারণি বানিয়ে দেওয়া হলো যেটিতে তুমি একজনের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।

সারণি: ১.১

ফর্ম-এর নামপ্রথম শ্রেণি সেশনের প্রথম জরিপ
তোমার জন্ম মাস কী?
তোমার বাড়িতে কয়টি পোষা প্রাণী আছে?
তোমার প্রিয় খেলোয়াড় কে?

তথ্যের প্রয়োজনীয়তা: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যের প্রয়োজন হয়। ঘুম থেকে উঠে ঘড়ির সময় দেখা থেকে শুরু করে ঘুমানোর আগে আমাদের পরের দিন বিদ্যালয়ে আসার প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাগ গোছানোর সময় সেশন রুটিন দেখে নেওয়া-সব সময়ই তথ্যের প্রয়োজন হয়।

দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের ছোট-বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যা আমরা হয়তো খুব একটা লক্ষ্য করি না, যেমন ধরি- আমাদের বিদ্যালয়ে আসার জন্য তিনটি রাস্তা আছে, আজ কোন রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে যাবো, সেই সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হলে তথ্যের প্রয়োজন হবে।

আরেকটি উদাহরণ হতে পারে, আমাদের কয়েকজন বন্ধু বাসায় বেড়াতে এসেছে; আমরা সবাই মিলে কিছু একটা খেলতে চাই। আবহাওয়া ভালো থাকলে আমরা মাঠে গিয়ে খেলব; বৃষ্টি হলে বাসায় বসে খেলব। সে ক্ষেত্রে আমরা মোট কতজন আছি তার ওপর নির্ভর করে খেলা নির্ধারণ করতে পারি। সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়।

খেলার জন্য যদি কোনো সরঞ্জাম প্রয়োজন হয়, সেগুলো আমাদের কাছে আছে কি না, তার ওপরও নির্ভর করবে আমরা কী খেলব। এখানে তাহলে আমাদের কী তথ্য প্রয়োজন হচ্ছে? ‘আবহাওয়ার তথ্য’ এবং ‘কী কী খেলার সামগ্রী আছে’।

চলো এবার তাহলে আমরা কিছু অনুশীলন করি। আগের উদাহরণটি দিয়ে যদি বলি।

তোমার সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তুমি আগামীকাল বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাগে কী কী নেবে। তোমার যে তথ্যের প্রয়োজন, তা হলো- ‘কাল কী কী সেশন হবে’তোমার উৎস হলো- তোমার ক্লাস/সেশন রুটিন

  • এবার আমরা নিজেরা কিছু সমস্যা চিহ্নিত করি, যেগুলো সমাধানের জন্য আমাদের তথ্যের প্রয়োজন এবং সেগুলোর জন্য উপযুক্ত উৎস কী হতে পারে তা লিখি।
সারণি: ১.২
সিদ্ধান্ত/সমস্যাযে তথ্য প্রয়োজনতথ্যের উৎস
উদাহরণ ১: আগামীকালের সেশনের জন্য ব্যাগে কী কী শিক্ষা উপকরণ নেব?কাল কী কী বিষয়ের সেশন হবে?আমার সেশন রুটিন।
উদাহরণ ২: আমার বিদ্যালয়ে যাওয়ার তিনটি রাস্তার মধ্যে আজ কোন রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে যাব?কোন রাস্তা উন্নয়ন কাজ চলার কারণে বন্ধ আছে/কোন রাস্তায় পানি উঠেছে/কোন রাস্তায় বেশি যানজট/কোন রাস্তায় সবচেয়ে কম সময় লাগবে?টেলিভিশন/পত্রিকা/গুগল ম্যাপ/ কোন ব্যক্তি যে ওই রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াত করে, তার মতামত।
উদাহরণ ৩: শীতের শেষে একটি বনভোজনের আয়োজন চলছে, এই সময় টেলিভিশনের সংবাদে দেখা গেল দেশের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি হচ্ছে, এখন বনভোজনের তারিখ কি পেছানো উচিত?বনভোজনের দিন কি বৃষ্টি হতে পারে?টেলিভিশন/পত্রিকার আবহাওয়া সংবাদ, গুগল ওয়েদার বা অন্যান্য আবহাওয়া বিষয়কঅ্যাপস/ওয়েবসাইট।
উদাহরণ ৪: পহেলা বৈশাখের সময় বেড়াতে যাবে?এই বছর পহেলা বৈশাখ কবে হবে?বাংলা পঞ্জিকা।
৫:
৬:
  • আমরা নিশ্চয়ই এই অনুশীলনের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছি যে আমাদের সমস্যা বা প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের ভিন্ন ভিন্ন তথ্যের প্রয়োজন হয় এবং বিভিন্ন তথ্যের জন্য উৎসও হয় ভিন্ন ভিন্ন।
আগামী সেশনের জন্য প্রস্তুতি এবং বাড়ির কাজ
আজকে আমরা খুঁজে বের করলাম প্রতিদিন আমাদের কত ছোট ছোট সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আর সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং জানলাম তথ্য আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। আজ আমরা বাড়িতে গিয়ে চিন্তা করব আমার জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত আমার আশপাশে কী কী সমস্যা আছে, যা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে এবং উপযুক্ত তথ্য খুঁজে পেলে আমি ওই সমস্যার সমাধান করতে পারব। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আলোচনা করব।
পরের সেশনে আমরা শ্রেণিকক্ষে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করব।
কাজটি বুঝতে না পারলে শিক্ষককে প্রশ্ন করতে পারি।

সেশন- ২ : সমস্যা পেলাম, এবার খুঁজব সমাধান আছে কোথায়!

আমরা গত সেশনে বুঝতে পেরেছি যে আমাদের প্রতিদিনের সমস্যার ধরন অনুযায়ী আমাদের বিভিন্ন রকম তথ্যের প্রয়োজন হয়। আমাদের কি মনে আছে আমরা একটি সমস্যার সমাধান করে সেই সমাধানটি দিয়ে আমাদের আশপাশের মানুষকে সচেতন করব? আজকের সেশনে আমরা বোঝার চেষ্টা করব এই সমাধানগুলো কোথায় আছে। অর্থাৎ যে তথ্যগুলো আমার চাই সেগুলো এখন আছে কোথায়? সেগুলোর উৎস কী?

তথ্যের উৎসকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় –

১. মানবীয় উৎস

২. জড় উৎস

মনে করো তোমার বাসায় একজন এসে জানিয়ে গেলেন কেন টিকা দেওয়া প্রয়োজন। আবার তোমার অভিভাবকের মোবাইল ফোনে কখন কোথায় টিকা দিতে হবে তার তথ্য এল। এখানে তোমার বাসায় আসা ব্যক্তি হলেন মানবীয় উৎস। মোবাইল ফোনটি হলো জড় উৎস।
  • মানবীয় উৎস হলো যখন একজন মানুষ সক্রিয়ভাবে তোমাকে তথ্য দিচ্ছে।
  • জড় উৎস হলো যখন তোমাকে সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তথ্য পেতে হচ্ছে।

আমরা কি জানি জরিপ করতে বা সংবাদ প্রস্তুত করতে ভিন্নভাবে তথ্যকে বিশ্লেষণ করা হয়? এ ক্ষেত্রে তথ্যের উৎসকে অন্য দুই ভাবে দেখা হয়। সেগুলো হলো-

১. প্রাথমিক উৎস বা মূল উৎস।

২. মাধ্যমিক উৎস বা পরোক্ষ উৎস।

৩. তথ্যের ‘মানবীয় উৎস’ এবং ‘জড় উৎস’ এই নামগুলো দিয়েই আমরা অনুমান করতে পারছি কোনগুলো মানবীয় উৎস আর কোনগুলো জড় উৎস । মানবীয় উৎসগুলো বিভিন্ন রকম হতে পারে। নিচের ছকের মানবীয় উৎসগুলো দেখে নিই আর ভেবে দেখি এই ধরনের উৎস থেকে আমরা কখনো তথ্য নিয়েছিলাম কি না ।

ঘর: ১.১

১. বিশেষজ্ঞ: যে বিষয়ে তথ্য প্রয়োজন সে বিষয়ে যার যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। যেমন যদি স্বাস্থ্য বিষয় নিয়ে তথ্যের প্রয়োজন হয় তাহলে নির্দিষ্ট বিষয়ের চিকিৎসক, কৃষি বিষয়ে তথ্যের প্রয়োজন হলে উপজেলা কৃষি বিশেষজ্ঞ ।
২. অভিজ্ঞ ব্যক্তি: যে বিষয়ে তথ্যের প্রয়োজন সে বিষয়ে যার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যেমন কৃষি বিষয় হলে কৃষক, কোনো নির্দিষ্ট রোগের ওপর হলে ওই রোগে আক্রান্ত রোগী ।
৩. প্রত্যক্ষদর্শী: কোনো ঘটনা যে নিজে দেখেছে। যেমন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো তথ্য প্রয়োজন হলে উৎস হতে পারে একজন মুক্তিযোদ্ধা।
৪. ভুক্তভোগী: যে বিষয়ের তথ্য প্রয়োজন সে বিষয়টির কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এমন কেউ। যেমন বিষয়টি যদি বাল্যবিবাহ হয়, তাহলে উৎস হবে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে এমন কেউ বা তার অভিভাবক।
  • সবাই মিলে ঘরটি পূরণ করি।

ঘর: ১.২

জুয়েল তার বাবার ট্যাবলেটে/ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহার করে খুঁজল তার এলাকায় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব আছে কি না, যেখানে সে কম্পিউটার শিখতে পারে। এখন ইন্টারনেট বা যে ওয়েবসাইট থেকে জুয়েল তথ্যটি নিল, তা হয়ে গেল তার প্রয়োজনীয় তথ্যের উৎস। এটি কী ধরনের উৎস? সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়।

উত্তর: জড় উৎস।

মিতু তার মাকে জিজ্ঞেস করল, মা বাজারে কি আম পাওয়া যায়? মা উত্তর দিলেন। মা কী ধরনের উৎস?

উত্তর: মানবীয় উৎস

আরেকটু ভেবে কি বলা যায়, মা কোন ধরনের উৎস? (টিক চিহ্ন দাও)

অভিজ্ঞ/ বিশেষজ্ঞ/ প্রত্যক্ষদর্শী/ ভুক্তভোগী

মিতু ও তার বন্ধুরা মিলে ঠিক করল বিদ্যালয়ে একটি বাগান করবে, কিন্তু তারা জানে না তাদের এলাকার মাটি ও আবহাওয়ার জন্য কোন গাছ উপযোগী কিংবা সেই গাছের যত্ন কীভাবে নিতে হবে। তাদের বিদ্যালয়ের মালি এসে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাহায্য করলেন। তাহলে বিদ্যালয়ের মালি কী ধরনের উৎস?

উত্তর: ?

আরেকটু ভেবে কি বলা যায়, মালি কী ধরনের উৎস? (টিক চিহ্ন দাও)

অভিজ্ঞ/ বিশেষজ্ঞ/ প্রত্যক্ষদর্শী/ ভুক্তভোগী

তুমি বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে করোনাভাইরাস বিষয়ক একটি পোস্টার দেখতে পেলে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে তোমার মনে কিছু প্রশ্ন ছিল, পোস্টার পড়ে তুমি সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলে। পোস্টার কী ধরনের উৎস ?

উত্তর: ?

ইন্টারনেটে তথ্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে পারি

তোমার যদি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থাকে এবং ব্যবহারের জন্য পরিবারের অনুমতি থাকে, তাহলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তথ্য অনুসন্ধানের চেষ্টা করতে পারো। তবে মনে রাখবে যদি ইন্টারনেট না থাকে তাহলে সেটি নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই। এটি ছাড়াও আমরা এই বিষয়টি খুব ভালো করে শিখতে পারব। সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়।

যারা এই ডিজিটাল প্রযুক্তিগুলো আবিষ্কার করেছেন, তারা কিন্তু তোমাদের বয়সে এই প্রযুক্তিগুলো পাননি। তোমাদের মধ্যেই কেউ কেউ আগামী দিনের প্রযুক্তিগুলো আবিষ্কার করবে, যেগুলো আমরা এখন কল্পনাও করতে পারছি না!

সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে আমরা সাধারণত ইন্টারনেটে তথ্য খুঁজে থাকি। সার্চ ইঞ্জিন হলো এক ধরনের মাধ্যম যার সাহায্যে ইন্টারনেটে থাকা সব তথ্য থেকে আমরা প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো পেতে পারি। সবচেয়ে পরিচিত সার্চ ইঞ্জিন হলো Google। এছাড়া আছে Bing, Baidu, Yahoo!, Yandex. Ask.com |

সার্চ দেওয়ার পর তুমি দেখতে পাবে অনেকগুলো ওয়েবসাইটের সাজেশান বা ফলাফল আসে। এক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় সবার আগে আসে Wikipedia। উইকিপিডিয়ার সব তথ্য কিন্তু নির্ভরযোগ্য নয়। তাই উইকিপিডিয়া থেকে কোনো তথ্য পাওয়ার পর অন্য আরও দুই-একটি ওয়েবসাইটেও দেখে নেবে সবাই একই রকম তথ্য দিচ্ছে কি না।
তথ্যের পাশাপাশি অনেক সময় অনেক বিজ্ঞাপনের ওয়েবসাইটও চলে আসে, সেগুলোতে ক্লিক করলে প্রয়েজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে না।
কোন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নেবে তা নির্ধারণ করাটাও জরুরি। বাংলাদেশের কোনো তথ্য হলে সরকারি ওয়েবসাইট ‘তথ্য বাতায়ন’ থেকে নেওয়া সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তথ্য বাতায়নে খুঁজে না পেলে দেখবে কোন নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যম, বই বা ম্যাগাজিন ধরনের কিছু পাওয়া যায় কি না। সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়।
ওয়েবসাইটের তথ্যটি সর্বশেষ কবে প্রকাশ করা হয়েছে সেটি দেখে নেওয়াটাও জরুরি, হয়তো তথ্য এতটাই পুরোনো যে সেটি এখন আর কার্যকর না-ও থাকতে পারে। সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়
Key Word: ইন্টারনেট তার বিপুল তথ্য ভান্ডার থেকে Key Word ধরেই আমাদের জন্য তথ্য খুঁজে বের করে আনে। মনে করো আমি জানতে চাইলাম ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট নদীর নাম কী', এই পুরো এক বাক্যে Key Word হচ্ছে ‘বাংলাদেশ’ ‘ছোট’ ‘নদী’। আমরা চাইলে পরীক্ষা করে দেখতে পারি এই পুরো লাইন লিখলে যে তথ্যগুলো আসে, শুধু এই তিনটি শব্দ লিখলেও একই তথ্যগুলোই আসে। তাই তুমি যত সুনির্দিষ্ট Key Word দিয়ে ইন্টারনেটে সার্চ দিতে পারবে, তত দ্রুত এবং কার্যকর তথ্য তুমি পাবে ।
  • বাড়ির কাজ : গতদিন বাড়ীর কাজ হিসেবে আমরা যে সমস্যাটি খুঁজে বের করেছিলাম, তা সমাধানের জন্য তথ্যের উৎস (পত্রিকা/টেলিভিশন/ইন্টারনেট/বই/ কোন ব্যক্তি ইত্যাদি) কী হতে পারে তা খুঁজে নিয়ে আসব।

সেশন- ৩ : দলীয়ভাবে ঠিক করি, আমরা কোন সমস্যাটির সমাধান করতে চাই

আগের সেশনে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি সমস্যা এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্যের উৎস খুঁজে আনার কথা ছিল, আজকের সেশনে আমরা সে সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব অনুযায়ী বাছাই করব এবং নির্ধারিত সমস্যা নিয়ে আরও গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করব এবং তা সমাধানের পরিকল্পনা করব। সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়।

এই কাজগুলো করার জন্য আমরা দলে ভাগ হব। একটি দলে মিলেমিশে কাজ করার চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই। পৃথিবীর সব বড় বড় কাজ হয় সহযোগিতায়, প্রতিযোগিতায় নয়।

সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়

এখন আমরা দলে ভাগ হয়ে প্রতিটি দল একটি করে সমস্যা নির্ধারণ করবো। কাজ শুরু করার আগে ঘর ১.৩ পড়ে নিই ।

ঘর: ১.৩

বিষয়বস্তু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিবো

  • বিষয়টি যেন একটু স্বতন্ত্র বা আলাদা হয়।
  • বিষয়টি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য আছে এবং আমাদের পক্ষে সেটি খুঁজে বের করা সম্ভব হবে সেটি নিশ্চিত হয়েই বিষয় নির্বাচন করব।
  • বিষয়টির ওপর তথ্য খুঁজে বের করা এবং তথ্যগুলো সাজিয়ে উপস্থাপনযোগ্য করার জন্য আমরা খুব বেশি সময় পাব না। আর একটি শ্রেণিকার্যক্রমের পরেই আমাদের উপস্থাপন করতে হবে তাই বিষয়টি যেন খুব জটিল না হয় সেটি লক্ষ্য রাখব।
  • এই কাজ করতে গিয়ে যেন আলাদা অর্থ ব্যয় করতে না হয় সেটিও বিবেচনা করব।
  • সর্বশেষ আমরা কোন বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাই তা শিক্ষককে জানাব এবং শিক্ষকের মতামত নিয়েই বিষয়টি চূড়ান্ত করব।

দলীয় আলোচনা ও সমস্যা/ বিষয়বস্তু চূড়ান্তকরণ

আমরা যে বিষয় বা সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই, সে বিষয়টি নির্ধারণ করে ফেলার পর আমরা দলের মধ্যে কাজ ভাগ করে নেব, কে কোন অংশটুকুর তথ্য খুঁজে নিয়ে আসব তা ঠিক করে নিব। সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়।

এখন আমরা নিজের দলের জন্য নিচের ছকটি পূরণ করি:

সারণি: ১.৩

দলের নাম
যে সমস্যাটি কাজ করার জন্য বাছাই করা হয়েছে
সমস্যা সম্পর্কিত সম্ভাব্য তথ্যের উৎসের তালিকা
প্রস্তুতি
  • যখন কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তি, বিশেষজ্ঞ, প্রত্যক্ষদর্শী বা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ার জন্য তার সাক্ষাৎকার নেব তখন তার গোপনীয়তার ব্যাপারে লক্ষ্য রাখব।

প্রথমে তার কাছ থেকে অনুমতি নেব যে তিনি তথ্য দিতে/কথা বলতে ইচ্ছুক কি না।

তিনি ইচ্ছুক হলে, তাকে নিশ্চয়তা দেবো যে তার নাম পরিচয় চাইলে গোপন রাখতে পারেন। তাকে জিজ্ঞেস করব তার নাম-পরিচয় গোপন রাখতে চান কি না। যদি গোপন রাখতে চান, তাহলে তার উদ্ধৃতি/কথা/বক্তব্যটি লেখা, বলা বা প্রকাশ করার সময় আমি এভাবে উপস্থাপন করব- ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বলেছেন…

  • বাড়ির কাজ : আমরা দলে বসে কিছু তথ্য শ্রেণিকক্ষেই হয়তো সংগ্রহ করেছি। বাড়ীর কাজ হিসেবে আমরা দলের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে নিব কে কোন অংশের তথ্য খুঁজবো এবং সে অনুযায়ী আগামী দিন আমরা তথ্য নিয়ে আসবো।সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়।

সেশন- ৪ : আমাদের খুঁজে বের করা তথ্যগুলোকে চূড়ান্ত করতে ভুল তথ্য ছেঁকে ফেলি

ইতোমধ্যে আমরা কোন সমস্যাটি নিয়ে কাজ করতে চাই তা নির্ধারণ করে ফেলেছি এবং কিছু তথ্য সংগ্রহও করে ফেলেছি। আমাদের আশপাশে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে রয়েছে, তার থেকে আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্যটি আমরা নিয়ে থাকি। এই তথ্য নেওয়ার সময় নিশ্চিত হতে হবে, তথ্যটি শতভাগ সঠিক। কারণ, এই সমাধানগুলো নিয়ে আমরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে সচেতনতা তৈরি করতে যাব, সেখানে ভুল তথ্য চলে গেলে সেটি খুব বিপজ্জনক ফল বয়ে আনতে পারে।

  • তাই আজকের সেশনের সময়টুকু আমরা কাজে লাগাব আমাদের দলের নির্ধারিত বিষয়বস্তুর ওপর খুজে আনা তথ্যগুলো সমন্বয় করতে এবং সেগুলো সাজিয়ে শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন করার জন্য প্রস্তুত করতে। এখানে লক্ষ্য রাখব আমাদের উপস্থাপিত তথ্যগুলো সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে।
  • আমরা যে তথ্যগুলো ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছি সেগুলো যাচাই করার প্রয়োজন হলে শিক্ষকের সহায়তায় আমরা একসঙ্গে বসে যাচাই করে নেব। নিচের ঘরের বিষয়বস্তুগুলো মাথায় রাখলে আমরা কীভাবে তথ্য যাচাই করতে হয় তার একটি ধারণা পাব।

তথ্য যাচাইয়ের কিছু সাধারণ নিয়ম

কোন মানবীয় উৎস থেকে যদি আমরা তথ্য নিয়ে থাকি তবে সবার আগে এটি লক্ষ্য রাখব যে আমাকে তথ্যটি দিচ্ছে সে কতটা বিশ্বাসযোগ্য। যেমন ধরো- স্কুলে আসার সময় রাস্তায় অপরিচিত একজন ব্যক্তি আমার স্কুল সম্পর্কে একটি তথ্য দিল, আর স্কুলে আসার সময় আমার শিক্ষক আমাকে আমার স্কুল সম্পর্কে একটি তথ্য দিলেন, আমি কার দেওয়া তথ্য বেশি বিশ্বাস করব? ঠিক এ রকমই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আমরা বিভিন্ন তথ্য পাব তখন আমাকে মূল্যায়ন করতে হবে কোন মানুষটি বেশি বিশ্বাসযোগ্য।
কম বিশ্বাসযোগ্য একজন মানুষ সামনাসামনি, টেলিফোনে কিংবা ইন্টারনেটে কোনো তথ্য দিলে সেটি আরও দুই-একজনের সঙ্গে যাচাই করে নেব যে তার দেওয়া তথ্য সঠিক কি না । সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়।
আরেকটি ব্যাপারে লক্ষ্য রাখব, যে আমাকে তথ্যটি দিচ্ছে, তার ওই তথ্য দেওয়ার ব্যাপারে নিজস্ব কোনো স্বার্থ আছে কি না। যদি সে রকম থেকে থাকে তাহলে আমাকে বিবেচনায় নিতে হবে যে আমি সে তথ্য কতটা বিশ্বাস করব।
অনেক সময় বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিও না জেনে ভুল তথ্য দিতে পারে। বিশেষ করে ইন্টারনেটের কোনো তথ্য অনেকে সহজে বিশ্বাস করে তাই বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি যদি ইন্টারনেটে পাওয়া কোনো তথ্য আমাকে দেয়, তাহলে আমাকে নিশ্চিত হতে হবে সে এই তথ্যটি কোন উৎস থেকে পেয়েছে? কোন বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট বা পত্রিকা থেকে পেয়েছে কি না?
অনেক সময় দেখা যায়, কোনো পত্রিকা বা টেলিভিশনের লোগো ব্যবহার করে অন্য একটি ভিডিও প্রচার করছে ইন্টারনেটে, যা ওই টেলিভিশনের নয়। আমি কীভাবে বুঝতে পারব যে এটি টেলিভিশন বা পত্রিকার নয় ? ভিডিও বা সংবাদে যে তারিখ দেওয়া আছে, ওই টেলিভিশন বা পত্রিকার ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলে গিয়ে সেই তারিখ দিয়ে খুঁজে দেখতে পারি, আসলেই সেই তারিখে ওই ভিডিওটি ওই চ্যানেলে থেকে প্রচার হয়েছে কি না।

সারণি: ১.৪

আমাদের তথ্য যাচাই হয়ে গেলে নিচের সারণিটি পূরণ করি:

যে তথ্য সংগ্রহ করেছিলামযাচাই এর পর যা পেলাম

আগামী সেশনের উপস্থাপনার সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবো:

তথ্য যাচাইয়ের পর আমরা আগামী সেশনে উপস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা করব। আমাদের বিষয়টি শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখব যে উপস্থাপনাটি যেন অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয় এবং আমাদের দলের বিষয়বস্তুটি আমরা সবার কাছে তুলে ধরতে পারি। এক্ষেত্রে আমরা দেয়ালিকা, পোস্টার, পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা ইত্যাদি মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পারি।

  • আমাদের উপস্থাপনে যা যা থাকবে; নির্ধারিত সমস্যা, সমস্যার সমাধান, প্রাপ্ত তথ্যের উৎস, কীভবে আমাদের তথ্যটি যাচাই করেছি।

সেশন- ৫ ও ৬ : দলের সবাই মিলে সমস্যার সমাধানটি উপস্থাপন করি

সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়

আমরা আমাদের লক্ষ্যের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছি। আমরা সমস্যার সমাধান করে ফেলেছি উপযুক্ত তথ্যের মাধ্যমে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই সমাধানটি নিয়ে আমাদের আশপাশের মানুষদের সচেতন করা। তবে এর আগে আমরা নিজেদের সামনে আমাদের সমাধানটি উপস্থাপন করব যেন নিজেরা নিজেদের কাজের প্রশংসা করতে পারি এবং কোনো ভুল থাকলে সেটিও শুধরে নিতে পারি।

আজ এবং আগামী সেশন মিলিয়ে আমরা দলীয়ভাবে শ্রেণিকক্ষে আমাদের বিষয়টি উপস্থাপন করব। শ্রেণিকক্ষে যদি দলের সংখ্যা কম হয়, তাহলে এক দিনের মধ্যেই উপস্থাপনার কাজটি সম্পন্ন হয়ে যেতে পারে। সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়।

উপস্থাপনের সময় যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখব:

  • আজকের সেশনে আমরা প্রতিটি দল প্রতিটি দলকে মূল্যায়ন করব। আমাদের শিক্ষকের কাছে একটি মূল্যায়ন ছক আছে, সেটি শিক্ষকের কাছ থেকে নিয়ে নেব। প্রতিটি দলের জন্য একটি ছক পূরণ করব। আমরা যদি শ্রেণিকক্ষে পাঁচটি দল হয়ে থাকি তবে প্রতিটি দল অন্য চারটি দলকে মূল্যায়ন করব। মূল্যায়ন ছকের উপরে যে দলটিকে মূল্যায়ন করছি, সে দলের নাম লিখব।
  • দলের সবাই যেন উপস্থাপন করার সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করব। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে কেউ যদি উপস্থাপন করতে লজ্জা পায় কিংবা উপস্থাপন করতে গিয়ে কোনো ভুল কথা বা ভুল উচ্চারণ করে থাকে তাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করব না। মনে রাখব শ্রেণিকক্ষে ঠিক বা ভুল বলে কিছু নেই, ভুল যদি হয়েই থাকে আমরা নিজেরা নিজেদের সহায়তা করব ভুল শুধরে নেওয়ার জন্য।

আগামী সেশনের প্রস্তুতি:

আমরা আমাদের নির্ধারিত সমস্যার সমাধান বের করে তা উপস্থাপন করেছি। এতে করে আমাদের কারও কারও ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো ছিল সেটিও ঠিক করে ফেলেছি। আমরা যে সমস্যার সমাধান বের করেছি, আরও অনেকেই হয়তো সেই সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকে। তাহলে আমাদের দায়িত্ব হবে আমাদের সমাধানটি অন্যদের জানানো। এতে তারাও ভবিষ্যতে সমস্যার সমাধান করতে পারবে। আগামী সেশনে আমরা ঠিক করে নিয়ে আসব আমরা কীভাবে আমাদের আশপাশের মানুষ, বন্ধু, বিদ্যালয়ের বড় ভাই-বোন কিংবা পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে সমাধানটি জানাতে চাই এবং তাদের সচেতন করতে চাই। আমরা সুন্দর সচেতনতামূলক পোস্টার বানাতে পারি, ছড়াগান বানাতে পারি, কার্টুন/কমিকস আঁকতে পারি, গল্প লিখতে পারি। আমরা এক একটি দল এক এক রকমের সচেতনতামূলক উপকরণ আগামী সেশনে চূড়ান্ত করব। তাই আজ আমরা দলীয়ভাবে ঠিক করে নেব আমরা কেমন উপকরণ বানাতে চাই এবং নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নেব। আগামী সেশনের আগেই আমাদের উপকরণ অনেকটা তৈরি হয়ে যেতে হবে। শ্রেণিকক্ষে এসে সবাই মিলে শিক্ষকের মতামত নিয়ে উপকরণটি চূড়ান্ত করব।

সেশন ৭ : নিজেরা সমস্যার সমাধান খুঁজে পেলাম, এবার অন্যদের সচেতন করার পালা ।

আমরা আমাদের লক্ষ্যের একেবারে শেষের দিকে পৌঁছে গিয়েছি। আজ শ্রেণিতে বসে আমরা আমাদের সচেতনতামূলক উপকরণটি দলীয়ভাবে চুড়ান্ত করব এবং শ্রেণিকক্ষেই উপকরণ তৈরির কাজ যতটা সম্ভব এগিয়ে রাখব। লক্ষ্য রাখব আমাদের তৈরি করা উপকরণটি যেন সবাই আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করে; আবার একইসঙ্গে তারা ওই নির্দিষ্ট বিষয়ে সচেতনও হয়।সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়।

শিক্ষকের সহায়তায় উপকরণ তৈরি চূড়ান্ত হয়ে গেলে আমরা উপস্থাপনার জন্য সময় এবং স্থান নির্ধারণ করব, এটি হতে পারে বিদ্যালয়ের অ্যাসেম্বলি, অন্য আরেকটি শ্রেণি (৭ম থেকে ১০ম), তোমার বাড়ি বা অন্য কোনো স্থান। শিক্ষকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে আমরা ঠিক করে নেব, আমাদের উপকরণটি কোথায় এবং কার সামনে উপস্থাপন করলে সবচেয়ে মজার এবং কার্যকর হবে। তবে উপস্থাপনাটি শ্রেণিকক্ষের বাইরেই হতে হবে।

শিক্ষক আমাদের একটি ছক দেবেন, যে ছকটি আমাদের উপকরণটি যারা দেখছেন তারা পূরণ করবেন। শিক্ষকের কাছ থেকে ছকটি নিয়ে নিই। প্রতিটি দল কমপক্ষে পাঁচ জন দর্শক/শ্রোতার কাছ থেকে একটি করে মূল্যায়ণ ছক পূরণ করে আগামী সেশনে শিক্ষকের কাছে জমা দেবো।

সেশন ৮ : নিজেদের জন্য নিজেরাই তৈরি করি নির্দেশিকা (গাইডলাইন)।

গত ৬/৭ টি সেশনে আমাদের অনেক নতুন অভিজ্ঞতা হলো এবং এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নতুন অনেক কিছু জানতেও পারলাম। এখন আমরা বলতেই পারি, সঠিক নিয়ম আর পদ্ধতি জানা থাকলে শুধু তথ্যের মাধ্যমে অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আর সবাই মিলে কাজ করলে কাজটিও হয়ে যায় অনেক আনন্দের। সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়।

তবে আমরা এই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে গিয়ে অনেক কিছু নতুন জেনেছি যা পরবর্তী সময়ে আমাদের জীবনে কাজে লাগাতে পারব। এবার আমরা সব বন্ধুরা মিলে খুঁজে বের করবো আমাদের নতুন কী অভিজ্ঞতা হলো এবং সেই অভিজ্ঞতা আমরা আমাদের জীবনে কীভাবে কাজে লাগাব। এটি হবে আমাদের নিজেদের জন্য নিজেদের তৈরি নির্দেশিকা।

এক্ষেত্রে একজন/দুইজন দায়িত্ব নেব সবার মতামতগুলো বোর্ড, ফ্লিপচার্ট বা একটি কাগজে লিখতে। আলোচনার সুবিধার জন্য কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়।

সারণি: ১.৫

অর্জিত অভিজ্ঞতাপরবর্তীতে কীভাবে কাজে লাগাবো
১। উপযুক্ত উৎস
কি হতে পারে সেটি
বুঝতে অনেক সময় ব্যয় হয়ে গেছে।
১। শিক্ষক বা বড় ভাইবোন বা আত্মীয়ের কাছে জিজ্ঞেস করে জেনে নিব উপযুক্ত উৎস কি হতে পারে।
২। এমন বিষয়বস্তু নির্ধারণ করবো যেটি সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য একাধিক মাধ্যমে আছে, একটিতে না পেলে অন্য আরও মাধ্যমে যেন খুঁজতে পারি।
৩।
8।
২। ইন্টারনেট থেকে
তথ্য খুঁজতে গিয়ে
ভুল তথ্য নিয়ে
ফেলেছি।
১। একটি ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিয়ে আবার আরও কয়েকটি ওয়েবসাইটের সাথে তা মিলিয়ে নিব, যে সব ওয়েবসাইট একই তথ্য দিচ্ছে কিনা।
২। সবার আগে সরকারি ওয়েবসাইট বা যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা দেশ সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি সে প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও দেশের ওয়েবসাইট দেখব।
৩। যে ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিচ্ছি সে ওয়েবসাইটটি ওই নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর তথ্য দেয় কিনা, নাকি এক এক সময় এক রকম তথ্য দেয়, এবং কিছু তথ্য একটু বাড়িয়ে, ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বেশি আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করে তা যাচাই করবো। সেই ধরণের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিব না ।
8।
৫ ।

আমরা শ্রেণিকক্ষে আলোচনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ভুল সংশোধনের অনেক উপায় বের করে ফেলেছি। এবার আমরা তথ্য যাচাই এবং এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়ে সবাই মিলে একটি পোস্টার তৈরি করব। উপরে আমরা যে বিষয়গুলো শনাক্ত করেছি, সেগুলো নিয়েই হবে এই পোস্টার। পরবর্তী সময়ে আমাদের নির্ধারণ করা এই নিয়মগুলোই আমরা মেনে চলার চেষ্টা করব। সমস্যা দেখে না পাই ভয়, সবাই মিলে করি জয়।

পোস্টারে আমরা গুরুত্ব দেবো:

১. তথ্য সংগ্রহের সময় যা করা উচিত এবং যা উচিত না।

২. তথ্য ব্যবহারের সময় যা করা উচিত এবং যা উচিত না।

  • মনে রাখব আমরা এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যা জানলাম তাই এই পোস্টারে লিখব। কোথাও থেকে পড়ে, মুখস্থ করে পোস্টারটি তৈরি করব না।
আমাদের শিক্ষককে আমরা অনুরোধ করতে পারি তিনি যেন অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সঙ্গে আমাদের তৈরি পোস্টারটি শেয়ার করেন এবং অন্যান্য বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৈরি পোস্টারও আমাদের দেখার জন্য সংগ্রহ করেন তাহলে অনেকের অর্জিত অভিজ্ঞতা মিলে আমাদের আরও দারুণ দারুণ ব্যাপার জানা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: এই কনটেন্ট কপি করা যাবেনা! অন্য কোনো উপায়ে কপি করা থেকে বিরত থাকুন!!!