সঠিকভাবে সাওম পালন ও যাকাত আদায়ের শিক্ষা নিয়ে নাটিকা প্রস্তুত ও উপস্থাপন

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমাদের জন্য আজ সঠিকভাবে সাওম পালন ও যাকাত আদায়ের শিক্ষা নিয়ে নাটিকা প্রস্তুত ও উপস্থাপন নিয়ে আজকে হাজির হলাম। তোমরা এটি অনুসরণ করে সঠিকভাবে সাওম পালন ও যাকাত আদায়ের শিক্ষা কিভাবে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে পারে তার উপর নাটিকা প্রস্তুত ও উপস্থাপন করতে পারবে।

সপ্তম শ্রেণির ইসলাম শিক্ষা অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা (ষাণ্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন) ২০২৩ এর প্রশ্নপত্র অনুযায়ী ২য় অ্যাসাইনমেন্ট বা চূড়ান্ত মূল্যায়নের দিন শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে সাওম পালন ও যাকাত আদায়ের শিক্ষা নিয়ে নাটিকা প্রস্তুত ও উপস্থাপন করতে হবে।

এর আগে এই বিষয়ের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট মহান আল্লাহর পরিচয় ও প্রশংসামূলক (তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাত) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইসলামি সঙ্গীত সম্পর্কে ধারণা দেওয়া চেষ্টা করেছি।

সঠিকভাবে সাওম পালন ও যাকাত আদায়

সাওম পালন ও যাকাত আদায় ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। সঠিকভাবে এই বিধান পালনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ভেদাভেদ দূর করা সম্ভব এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব।

মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সঠিকভাবে সাওম পালন ও যাকাত আদায় সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এবং মুসলিম বিশ্বে সবাই আখিরাতে শান্তি লাভ এবং আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার উদ্দেশ্য সাওম পালন করে যাকাত আদায় করে।

ইসলামে সঠিকভাবে সাওম পালন ও যাকাত আদায়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয় অপরিসীম। আমরা এই পাঠে সঠিকভাবে সাওম পালন ও যাকাত আদায়ের শিক্ষা কিভাবে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে পারে তার উপর নাটিকা প্রস্তুত করবো এবং সেটি উপস্থাপন করবো।

সঠিকভাবে সাওম পালন ও যাকাত আদায়ের শিক্ষা নিয়ে নাটিকা প্রস্তুত ও উপস্থাপন

সঠিকভাবে সাওম পালন ও যাকাত আদায়ের শিক্ষা নিয়ে নাটিকা প্রস্তুত

সপ্তম শ্রেণির ইসলাম শিক্ষা অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা বা ষাণ্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন এর চূড়ান্ত পরীক্ষার দিন শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে সাওম পালন ও যাকাত আদায়ের শিক্ষা কিভাবে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে পারে তার উপর নাটিকা প্রস্তুত ও উপস্থাপন করতে হবে।

তোমাদের জন্য আমরা দুটো সঠিকভাবে সাওম পালন ও যাকাত আদায়ের শিক্ষা নিয়ে দুটো নাটিকা প্রস্তুত করেছি। তোমার কাছে যেটি ভালো লাগে সেটি তোমরা মূল্যায়নের দিন উপস্থাপন করতে পারবে।

সাওম পালন ও যাকাত আদায়ের শিক্ষা নিয়ে নাটিকা-১

নাটকের নাম: সহানুভূতির বন্ধন

চরিত্রসমূহ:

১. আহমেদ: একজন জ্ঞানী এবং সহানুভূতিশীল শিক্ষক

২. সারা: একজন ধনী ব্যবসায়ী

৩. রশিদ: একজন সংগ্রামী শ্রমিক

৪. আয়েশা: একজন তরুণ ছাত্রী

৫. আদম: একজন সম্প্রদায়ের নেতা

দৃশ্য-১: আহমেদের ক্লাসরুম

(আহমদ ছাত্রদের বিভিন্ন দলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে)

আহমেদ: (ছাত্রদের উদ্দেশে) স্বাগতম, আমার প্রিয় শিক্ষার্থীরা। আজ, আমি মানুষের মধ্যে পার্থক্য দূর করার জন্য রোজা পালন এবং সঠিকভাবে যাকাত প্রদানের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি গভীর পাঠ শেয়ার করতে চাই। আমি তোমাদেরকে একটি গল্প বলবো যা এই বিষয়ে গভীরভাবে তুলে ধরবে।

দৃশ্য-২: সারা’র বিলাশবহুল বাড়ী

(সারাকে তার বিলাসবহুল বসার ঘরে দেখানো হয়েছে, চারপাশে ঐশ্বর্য ঘেরা)

সারাঃ (উল্লাস করে) দেখো আমার সব আছে! আমার সম্পদ, আমার প্রাসাদ, এবং আমার অসাধারণ জীবনধারা। আমি যা চাই তা সবই আছে।

দৃশ্য-৩: রশিদের সাদামাটা (দরিদ্র) বাসস্থান

(রশিদকে একটি সাধারণ, দরিদ্র পরিবারের বাসস্থানে দেখানো হয়েছে)

রশিদ: (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) যদি আমি আমার পরিবারের জন্য আরও ভাল জীবন দিতে পারতাম। আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করি, তবুও কিছুই করতে পারছিনা। জীবন খুব দুর্ভিসহ মনে হয়।

দৃশ্য-৪: মসজিদ

(আয়েশা এবং আহমেদ মসজিদের বাইরে একটি বেঞ্চে বসে গভীর কথোপকথন করছেন)

আয়েশা: স্যার, কেন কিছু লোক এত ধনী যখন অন্যরা দারিদ্র্যতার মধ্যে দিন যাপন করে? এটা বোঝা কঠিন।

আহমেদ: আয়েশা, এটা আসলেই এমন একটি প্রশ্ন যা অনেককে কষ্ট দেয়। ইসলামের শিক্ষায় ধনী ও গরিবের মধ্যে ব্যবধান দূর করা এবং মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলোর যাবতীয় নির্দেশনা আছে।

দৃশ্য-৫: সারার রূপান্তর

(সারাকে দেখানো হয়েছে সৌখিন জীবন যাপনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে এবং তাদের অশান্ত দেখাচ্ছে)

সারাঃ (একাকী ভাবছে) আমার এত খালি খালি লাগে কেন? আমার সম্পদ আমাকে সত্যিকারের সুখ দেয়নি। এত সম্পদ থাকার পরও আমি কেন নিজেকে পরিপূর্ণ দাবি করতে পারিনা!

দৃশ্য-৬: আয়েশা এবং সারার সাক্ষাৎ

(আয়েশা সারার কাছে আসে, সারাকে অস্থির দেখাচ্ছে)

আয়েশা: সারাহ, আমি লক্ষ্য করেছি ইদানীং তোমাকে অস্থির মনে হচ্ছে। সবকিছু কী ঠিক আছে?

সারা: আয়েশা, আমি বুঝতে পেরেছি যে আমার সম্পদ আমাকে তৃপ্তি দেয়নি। আমি এত সম্পদ থাকার পরও নিজেকের সুখী ভাবতে পারছিনা। আমার সারাক্ষণ শুধু খালি খালি লাগে। কেমন একটা অস্থির অবস্থা! আমি এর থেকে মুক্তি চাই।

আয়েশা: সম্ভবত, তুমি ইসলামের নিয়মগুলো ঠিক ঠাক অনুসরণ করছো না! ইসলামে সিয়াম পালন ও গরীবদের যাকাত দেওয়ার বিধান আছে। তুমি তোমার সম্পদের কিছু অংশ যাকাত হিসেবে দান করে দিতে পারো। এতে করে কিছু গরীব মানুষ তাদের জীবন যাপনে স্বস্তি পাবে আর তুমিও আল্লাহর রহমতে শান্তি পাবে।

সারা: তুমি ঠিক বলছো? এই বিষয়ে আমার কি করা উচিত?

আয়েশা: তুমি অবশ্যই ইসলামের নিয়ম অনুসরণ করে সাওম পালন করো এবং যাকাত আদায় করো। সাওম পালনের মাধ্যমে তুমি গবীর মানুষের কষ্ট অনুভব করতে পারবে।

(সারাহ এবং আয়েশা দুজন দুজনকে বিদায় জানিয়ে প্রস্থান করবে)

দৃশ্য-৭: রশিদের সংগ্রাম

(রশিদকে কঠিন পরিস্থিতিতে কঠোর পরিশ্রম দেখানো হয়েছে)

রশিদ: (একজন সহকর্মী কাছে উদ্বেগের কথা জানিয়ে) জানিনা আর কতদিন এই ভার বহন করতে পারব। আমার কঠোর পরিশ্রমের দিন কবে শেষ হবে। আমার খুবই ক্লান্তি লাগে।

দৃশ্য-৮: সারার সাওম পালন এবং যাকাত আদায়

(সারা আজ ইসলামের সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে সাওম পালন করছে। সে ভোর রাতে সেহরি খেয়েছে এবং সারাদিন সবগুলো নামাজ আদায় করেছে। এখন আসর এর আজান এর সময়। সারা নামাজ আদায় করে একাকী বসে ভাবছে)

সারাহ: (একাকী বসে ভাবছে) আমি আজ একদিন মাত্র উপোষ আছি। কতনা কষ্ট হচ্ছে। যারা দিনের পর দিন এক বেলা বা আধ বেলা খেয়ে দিন যাপন করে তাদের কি অবস্থা! আল্লাহ ইসলামের নিয়ম কানুনে যাকাত আদায়ের বিধান রেখেছে।

আমার মনে হয় সঠিকভাবে যাকাত আদায় করতে পারলে গরীব মানুষদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হতো এবং তারাও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হতে পারবো। আমারতো অনেক সম্পদ, আমি ইসলামের নিয়ম মেনে যাকাত আদায় করবো।

দৃশ্য-৮: আদমের ঠিকানা

(আদম এলাকার লোকজনদের নিয়ে একটি সমাবেশের সামনে দাঁড়িয়েছেন)

আদম: আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমাদের অবশ্যই আমাদের মধ্যে সম্পদের বৈষম্য মোকাবেলা করতে হবে। আসুন আমরা ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করি এবং সিয়াম পালন করি এবং আন্তরিকতার সাথে যাকাত প্রদান করি।

(সারাহ ঘরে বসে ঐ সমাবেশের কথাগুলো শুনছে এবং মনে সিদ্ধান্ত নিল এবার সে সঠিক নিয়মে যাকাত দিবে। সে তাই আদমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে)

দৃশ্য-৯: সারা’র যাকাত আদায়

(সারা এবার ইসলামের সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে যাকাত আদায় করছে। সে একটি যাকাত নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে তার সম্পদে উপর নির্ধারিত যাকাত আদায় করেছে।

সারা: (গোপণে রশিদ এর বাড়ীতে যাবে) ভাই রশিদ বাড়ী আছেন!

রশিদ: আসসালামু আলাইকুম! ভালো আছেন? (কোথায় বসতে দিবে তা নিয়ে রশিদ ইতস্ত বোধ করবে)

সারা: (রশিদকে ইতস্ত দেখে সহজভাবে বিষয় বলবে রশিদ অস্থির না হওয়ার জন্য। এবং রশিদ-কে কিছু নগদ অর্থ দিবে) মহান আল্লাহ আমাকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সম্পদ দান করেছেন। আমি খবর নিয়েছি আপনি এই মুহুর্তে কিছুটা আর্থিক সংকটে আছেন এবং সংগ্রামে জীবন যাপন করছেন।

আপনি আমার তরফ থেকে এই উপহার গ্রহণ করুন এবং নিজে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করুন। আমার বিশ্বাস আল্লাহ আপনাকে এই বিষয়ে সাহায্য করবেন।

রশিদ: (বিনয়ের সাথে) আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ! আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। আমি আর্থিক সংকটের কারণে ব্যবসায় করতে পারছিলাম না। আপনি দয়া করে এটি দেওয়াতে আমার অনেক উপকার হলো।

দৃশ্য-১০: রশিদ এর জীবন যাত্রায় পরিবর্তন

(রশিদ সারার দেওয়ার যাকাত এর অর্থ গ্রহণ করলো এবং নিজে গ্রামের বাজারে একটি ছোট কাপড়ের দোকান দিল। তার ব্যবসায় ভালোই চলবে)

রশিদ: (দোকানের কর্মচারীর সাথে) শোনো আল্লাহ আমাকে এই মুহুর্তে অনেক ভালো রেখেছেন। আমি কিছুদিন আগেও অনেক কষ্টে দিন যাপন করেছি। আল্লাহর একজন বান্দা আমাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করায় আমি নিজে এই ব্যবসা শুরু করতে পেরেছি।

কর্মচারী: তাহলে আপনারও উচিত যাকাত আদায়ের মাধ্যমে অন্যকে সহযোগিতা করা। তাহলে সমাজের মধ্যে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ কিছুটা হলেও কমবে।

রশিদ: তুমি ঠিক বলেছো। আমি ইসলামের সকল নিয়ম মেনে অবশ্যই যাকাত আদায় করবো।

দৃশ্য-১১: সারা’র স্বস্তির জীবন লাভ

(সারাহকে দেখাবে সে এখন অনেক স্বস্তি পাচ্ছে এবং ইসলামে যাবতীয় রীতি নীতি মেনে চলার চেষ্টা করছে।)

দৃশ্য-১২: আহমেদের পাঠ

(আহমদ আবার ছাত্রদের সামনে দাঁড়াল)

আহমেদ: আমার প্রিয় ছাত্র, সারা এবং রশিদ তাদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার দ্বারা চালিত আলাদা যাত্রা শুরু করেছিল। রোজা পালন এবং সঠিকভাবে যাকাত প্রদানের মাধ্যমে তারা সমতা ও সহানুভূতির পথ আবিষ্কার করে।

দৃশ্য-১৩: সমাজের মধ্যে পরিবর্তন

(বিভিন্ন দৃশ্যে সমাজের সকলকে একত্রিত করা, অভাবগ্রস্তদের সাহায্য করা এবং সম্পদের ব্যবধান পূরণ করা দেখানো হয়েছে)

বর্ণনাকারী: রোজা পালন এবং সঠিকভাবে যাকাত প্রদানের মাধ্যমে যে ঐক্য ও সহানুভূতি গড়ে উঠেছে তার মাধ্যমে সম্প্রদায়ের পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের মধ্যে পার্থক্য হ্রাস পেয়েছে, সহানুভূতি, বোঝাপড়া এবং সমর্থনের বন্ধন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

দৃশ্য-১৪: উপসংহার (শেষ দৃশ্য)

(আহমদ ছাত্রদের উদ্দেশে শেষ সময়ে বক্তব্য রাখছেন)

আহমেদ: মনে রাখবেন, আমার প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, ইসলামের শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত সম্পদ বস্তুগত সম্পদে নয় বরং আমরা অন্যদের সাথে যে বন্ধন তৈরি করি তার মধ্যেই নিহিত থাকে।

রোজা পালন এবং সঠিকভাবে যাকাত প্রদানের মাধ্যমে আমরা মানুষের মধ্যে পার্থক্য দূর করতে পারি এবং একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠন করতে পারি যেখানে সমবেদনা ও সমতা রাজত্ব করবে।

সমাপ্ত

প্রিয় শিক্ষার্থীরা এই ছিল তোমাদের জন্য সঠিকভাবে সাওম পালন ও যাকাত আদায়ের শিক্ষা নিয়ে নাটিকা প্রস্তুত ও উপস্থাপন। আশা করছি তোমরা ইসলাম শিক্ষা চুড়ান্ত মূল্যায়নের দিন এটি উপস্থাপন করতে পারবে।

এছাড়াও সকল বিষয়ের নমুনা উত্তর সমূহ পাওয়ার জন্য আমাদের ফেসবুক গ্রুপ জয়েন করে নাও ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করো এবং ফেসবুক পেজটি লাইক এবং ফলো করে রাখুন। তোমার বন্ধুকে বিষয়টি জানানোর জন্য আমাদের ওয়েবসাইটটি তার খাতায় নোট করে দিতে পারো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: এই কনটেন্ট কপি করা যাবেনা! অন্য কোনো উপায়ে কপি করা থেকে বিরত থাকুন!!!