রোদ, জল, বৃষ্টি

আজকের আবহাওয়াটা কেমন? রোদ উঠেছে নাকি বৃষ্টি? কেমন আবহাওয়া তোমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ? সারাবছর কি আমাদের আবহাওয়া একই রকম থাকে? আবার এখন গরমকালে যেমন গরম থাকে, কয়েকশ বছর আগেও কি তেমনই ছিল? ভবিষ্যতেও কি সবসময় এমনই থাকবে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমাদের এবারের কাজ-

রোদ, জল, বৃষ্টি

প্রথম সেশন

আজকের আবহাওয়া কেমন? এই প্রশ্ন করলে আমরা কী বুঝি? রোদ, বৃষ্টি, বাতাস কেমন ইত্যাদিই তো? সকাল, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত- সবসময়ে কি আবহাওয়া একই রকম থাকে? দিনের কোন সময়ের আকাশ তোমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ? আকাশের রঙ যেমন দিনের বিভিন্ন সময়ে পাল্টায়, তেমনি আর কী কী পরিবর্তন আমরা সারাদিনে দেখি?

রোদ, জল, বৃষ্টি

* তোমার সবচেয়ে প্রিয় দিন কোনটা? কাঠফাটা রোদ, বৃষ্টির দিন, নাকি মেঘলা মেঘলা আবহাওয়া? বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে দেখো তো মিলে যায় কিনা। চাইলে এঁকেও দেখাতে পারো তোমার প্রিয় দিনের ছবি!

………………………………………………………………………………………………………………………………

এসো আগামী এক সপ্তাহ বাসায় কাজ করি-

______________________________________________________________________________________________

চলো এক সপ্তাহ একটু খেয়াল করে দেখি আমাদের আবহাওয়া কীভাবে দিনের বিভিন্ন সময়ে পাল্টাতে থাকে!

আগামী এক সপ্তাহ দিনের বিভিন্ন সময়ের আবহাওয়া খেয়াল করে নিচের ছকে নোট করো। দিনের কয়েকটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘর থেকে বের হয়ে খোলা পরিবেশে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে পর্যবেক্ষণের সময়, তাপমাত্রার ধারণা, গরমের অনুভুতি কেমন, আকাশের অবস্থা, বৃষ্টির সম্ভাবনা ইত্যাদি সম্পর্কে মন্তব্য লিখে রাখবে।

প্রতিদিন রেডিও ও টেলিভিশনে আবহাওয়ার খবর প্রচার করে শুনেছো নিশ্চয়ই। পত্রিকাতেও আবহাওয়ার খবর থাকে। রেডিও ও টেলিভিশনের খবর এবং পত্রিকা থেকেও এই এক সপ্তাহ আবহাওয়ার বিভিন্ন তথ্য নোট করো নিচের ছকে-

তারিখতথ্যের উৎস রেডিও/টেলিভিশন/ পত্রিকার তথ্যতাপমাত্রাবায়ুর আর্দ্রতাআকাশের অবস্থা ঘূর্ণিঝড়/ বৃষ্টিপাড় মন্তব্য তের সম্ভাবনামস্তব্য

দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেশন

______________________________________________________________________________________________

আবহাওয়ার তথ্য নোট রাখতে রাখতে এই একটা সপ্তাহ আমরা অন্য কাজে লাগানোর চেষ্টা করি না কেন! পত্রিকা বা টিভি থেকে প্রতিদিনের আবহাওয়ার তথ্য নিতে গিয়ে কিছু শব্দ প্রতিদিনই দেখবে, যেমন- বায়ুর তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বাতাসের আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, বায়ু প্রবাহের দিক ইত্যাদি।

এই শব্দগুলো আমরা শুনে থাকলেও সবগুলোর অর্থ কি শুনলেই বোঝা যায়? আবার এগুলো পরিমাপের উপায়ই বা কী? এই তিনটি সেশনে তোমরা অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে এই বিষয়গুলো পড়ে ক্লাসে আলোচনা করো, শিক্ষকের সহায়তা নাও।

ক্লাসে বায়ুপ্রবাহের দিক পরীক্ষার জন্য উইন্ডভেন বানিয়ে দেখতে পারো। বায়ুচাপের পরীক্ষাও খুবই অল্প কিছু উপকরণ দিয়ে ক্লাসে করে দেখা যায়। তোমাদের অনুসন্ধানী পাঠ বইয়ে এই পরীক্ষাগুলোর বিস্তারিত দেয়া আছে।

চতুর্থ ও পঞ্চম সেশন

তোমার বন্ধুরাও নিশ্চয়ই গত এক সপ্তাহে উপরের কাজগুলো করেছে! প্রথমে উপরের দুইটি ছক মিলিয়ে দেখো তো তোমার নিজের অনুভূতির সাথে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নেয়া আবহাওয়ার তথ্যের কী কী মিল আছে! এবার তোমার পাওয়া তথ্যের সাথে তোমার বন্ধুদের তথ্য মিলিয়ে দেখো, ওদের ছকে ওরা কীভাবে নোট রেখেছে?

গত এক সপ্তাহের আবহাওয়ার তথ্যগুলো আরেকটু খুঁটিয়ে দেখো তো, প্রথমদিনের সাথে শেষেরদিনের কেমন পার্থক্য দেখতে পাচ্ছ? গরম কি আস্তে আস্তে বাড়ছে নাকি কমে যাচ্ছে? আর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ? এভাবে চলতে থাকলে আগামী এক সপ্তাহে আবহাওয়া কেমন থাকতে পারে ধারণা করতে পারো?

দলে আলোচনা করে এবং আগের এক সপ্তাহ বা শিক্ষকের সহায়তায় আগের দুই সপ্তাহের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে দলীয়ভাবে পরবর্তী এক সপ্তাহের একটা আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করার চেষ্টা করো।

টিভিতে যেভাবে আবহাওয়ার বুলেটিন প্রচারিত হয় সেভাবে তোমরাও ক্লাসের বাকিদের সামনে তোমাদের বুলেটিন উপস্থাপন করতে পারো, সাথে পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড বা হাতে আঁকা পোস্টার ব্যবহার করে উপস্থাপনটাকে আরো মজার করেও তুলতে পারো!

> তোমার দলের তৈরি আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সারসংক্ষেপ টুকে রাখো নিচের ছকে-

তারিখ ও বারতাপমাত্রাবায়ুরআর্দ্রতাআকাশের অবস্থাঘূর্ণিঝড়/বৃষ্টিপাতের সম্ভবনামন্তব্য

কোন দলের আবহাওয়ার পূর্বাভাস সবচেয়ে বেশি সত্যি আবহাওয়ার সাথে মিলে গেল তা সপ্তাহ শেষে মিলিয়ে দেখতে ভুলো না যেন!

ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম সেশন

আবহাওয়া নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে একটা বিষয় নিশ্চয়ই বোঝা হয়ে গেছে যে, যেসব প্যারামিটারের সাহায্যে আমরা আবহাওয়া বুঝতে চেষ্টা করি সেগুলো নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। দিনের বিভিন্ন সময়ে যেমন তোমরা এই পরিবর্তন দেখেছো, তেমনি এও দেখেছো যে প্রতিদিন একই সময়ে ঠিক একই রকম আবহাওয়া থাকেনা।

এমনকি বছরের সব সময়েও একইরকম গরম বা ঠাণ্ডা থাকেনা, বৃষ্টিপাতও একরকম হয় না। তবে আমরা কিন্তু আগে ভাগেই টের পাই যে বছরের কোন সময়ে ঠাণ্ডা বেশি পড়বে বা বৃষ্টি বেশি হবে। সেজন্য বর্ষাকাল এলেই ছাতা কেনার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়, আবার শীত আসার আগেই বাসাবাড়িতে আলমারি থেকে লেপ-কম্বল নামিয়ে রোদে দেয়ার হিড়িক পড়ে!

” বছরের একেক ঋতুতে কেন আবহাওয়া একেকরকম থাকে তা আমরা পরে আলোচনা করব। কিন্তু এটা নিশ্চয়ই স্পষ্ট যে, দিনের বিভিন্ন সময়ে বা বছরের বিভিন্ন ঋতুতে আমরা আবহাওয়া যতই পাল্টে যেতে দেখি না কেন- এই পাল্টানোরও একটা প্যাটার্ন আছে। যে কারণে আমরা আগে থেকেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস করতে পারি, তা বেশিরভাগ সময়ে ফলেও যায়!

“ তোমরা ইতোমধ্যেই জেনে গেছো যে আবহাওয়ার এই সমস্ত উপাদান (যেমন- বায়ুচাপ, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদি) হলো সূর্য, পৃথিবী এবং পৃথিবীকে ঘিরে যে বায়ুমণ্ডল- এদের ভিতরকার পরষ্পরের সাথে বিভিন্ন ক্রিয়ার ফল। তারমানে কী দাঁড়ালো? এদের মধ্যকার যাবতীয় ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ফলে সাদা চোখে আমরা যা পরিবর্তন দেখি সেটারও একটা প্যাটার্ন আছে। অর্থাৎ বছরের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় আবহাওয়া একেবারে একই না হলেও মোটামুটি কাছাকাছি

থাকে!

এই যে বছর বছর আমরা একই ঋতু, আর একইরকম আবহাওয়া ঘুরে ফিরে দেখি, লম্বা সময়ের ক্ষেত্রেও সবসময় কি ব্যাপারটা একই থাকে? নিচের ছকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর কয়েকটি দেশের অনেক বছর পর পর তাপমাত্রা কী দাঁড়িয়েছে তা দেয়া হলো। তোমার বন্ধুর সাথে আলাপ করে দেখো তো, সময়ের সাথে এই কয়টা দেশের তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন দেখছো কি না? আর বিভিন্ন শহরের এই পরিবর্তনের মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাও কিনা!

সেলসিয়াস স্কেলে পাঁচ বছরের গড় তাপমাত্রা
বিশ শতকের গোড়ায়বিশ শতকের মাঝামাঝিএকবিংশ শতকের গোড়ায়
বাংলাদেশ২৫.০১ ডিগ্রি২৫.১৭ ডিগ্রি২৫.৭২ ডিগ্রি
মালদ্বীপ২৭.৬৩ ডিগ্রি২৭.৫৪ ডিগ্রি২৭.৮৫ ডিগ্রি
আইসল্যান্ড১.২২ ডিগ্রি১.৭২ ডিগ্রি২.২৮ ডিগ্রি

তোমরা চিন্তা করে যা পেলে তা পরের পৃষ্ঠার ছকে টুকে নাও-

এই তিনটি দেশের আবহাওয়া সময়ের সাথে পরিবর্তন ঘটছে কি না
পরিবর্তনের মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছ কিনা

* তোমাদের আলোচনার ফলাফল ক্লাসে বাকিদের সাথেও শেয়ার করো। দেখো, অন্যরা কী বলছে। এবার তোমাদের অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে জলবায়ুর অংশটা পড়ে নিয়ে আবার আলোচনায় যোগ

দাও।

দেখতেই পাচ্ছ, যে আপাতদৃষ্টিতে প্রতি বছর বিভিন্ন ঋতুতে একইরকম আবহাওয়ার পুনরাবৃত্তি হয় বলে মনে হলেও, আসলে লম্বা সময় ধরে দেখলে পৃথিবী জুড়েই জলবায়ুর (নিশ্চয়ই জেনে গেছো, যে এইক্ষেত্রে আমরা আবহাওয়া না বলে জলবায়ু বলব) পরিবর্তন ঘটছে এবং সেটার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ আছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের একটা বড় নির্দেশক হচ্ছে তাপমাত্রার পরিবর্তন। এখন তাপমাত্রা পরিবর্তন কেন হয়? বায়ুমণ্ডল তাপ ধরে রাখেই বা কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে তোমাদের একটা ছোট্ট পরীক্ষা করতে হবে। এই পরীক্ষা তোমরা বাড়িতে বা ক্লাসে যেকোনো জায়গায় করতে পারো।

উপকরণ: তিনটি ঢাকনাসহ কাচের জার/কাচের বোতল, তিনটি থার্মোমিটার (থার্মোমিটারটি যেন কাচের জার বা কাচের বোতলে প্রবেশ করানো যায়।)

পরীক্ষণের জন্য নিচের কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করো-

তিনটি কাচের জার পরিষ্কার করে খোলা স্থানে সূর্যালোকে (রোদে) রেখে থার্মোমিটার দিয়ে জারের ভিতরের বায়ুর তাপমাত্রা মেপে নাও (প্রয়োজনে অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে তাপমাত্রা পরিমাপের প্রক্রিয়া দেখে নিতে পারো)। এরপর তিনটি জারের ভিতরের বায়ুর তাপমাত্রা নিচে নোট রাখো।

তাপমাত্রা
প্রথম জার
দ্বিতীয় জার
তৃতীয় জার

১ তিনটা জারে নিশ্চয়ই কাছাকাছি তাপমাত্রাই পেয়েছো! থার্মোমিটার তিনটি জারের ভেতরে রেখে দাও।

১ এবার প্রথম জারের মুখ খোলা রেখে বাকি দুটো জারের মুখ আটকে দাও। তৃতীয় জারের মুখ আটকানোর আগে এতে এক টুকরো ভেজা কাপড় বা টিস্যু রেখে দাও।

১ তিনটি জারকেই আধাঘণ্টা রোদে রেখে দাও। আধাঘণ্টা পরে তিনটি জারেরই ভেতরে থাকা থার্মোমিটারের তাপমাত্রার মান রেকর্ড করো নিচের ছকে-

আধাঘণ্টা পর তাপমাত্রা
প্রথম জার
দ্বিতীয় জার
তৃতীয় জার

তিনটা জারের তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন দেখছো কি? পরিবর্তন কেন হচ্ছে বলে মনে করো? তোমার বন্ধুর সাথে এ নিয়ে আলোচনা করে তোমাদের মতামত পরের পৃষ্ঠার ছকে লিখ

• এবার অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে গ্রিনহাউজ ইফেক্টের অংশটা দুই বন্ধু মিলে পড়ে নাও। এবার ক্লাসে শিক্ষকসহ বাকি সবার সাথে আলোচনায় অংশ নাও। তোমাদের পরীক্ষার ফলাফলের সাথে এই ঘটনার কি কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছ?

মুখ আটকানো জারে তাপমাত্রা বেশি হলে তা কেন বেশি নিশ্চয়ই এর মধ্যে বুঝে গেছো! আচ্ছা দ্বিতীয় আর তৃতীয় জারের তাপমাত্রার কি কোনো পার্থক্য পেয়েছিলে? এর কারণ কী? আবার আলাপ করে দেখো শিক্ষকসহ ক্লাসের বাকিদের সাথে।

* জলীয়বাষ্প যে একধরনের গ্রিনহাউজ গ্যাস তার প্রমাণ তো হাতেনাতেই পেলে! জলীয়বাষ্প মিথেন, কার্বন ডাই অক্সাইডসহ যেসব গ্রিনহাউজ গ্যাসের কথা তোমরা

জেনেছো সেগুলো বায়ুমণ্ডলে না থাকলে আমাদের কী দুর্গতি হতো একবার ভাবো তো! বায়ুমণ্ডল যদি তাপ ধরে রাখতে না পারত প্রচণ্ড শীতে ঠক ঠক করতে করতে মারাই পড়তাম আমরা! শুধু আমরা কেন, আমাদের আশপাশের যে অসংখ্য জীবের কথা তোমরা জেনেছো তাদের সবারই তো একই

হাল হতো! আর কার্বন ডাই অক্সাইড তো আমাদের সবচেয়ে উপকারী বন্ধু, গাছ যে খাবার তৈরি করে তার অন্যতম প্রধান উপাদানই তো কার্বন ডাই অক্সাইড!

এখন একটু অন্যভাবে তৃতীয় জারটার কথা ভাবো, যদি কাচের জারের বদলে একইভাবে আমরা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাস বাড়াতে থাকি, তাহলে জলবায়ুর কেমন পরিবর্তন ঘটবে? একটু চিন্তা করে দেখো, তোমার আশপাশের মানুষের কী কী কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রিনহাউজ গ্যাস বেড়ে যায়? স্কুলে বা বাড়িতে, আসা যাওয়ার পথে খেয়াল করে দেখো অন্যদের আচরণ, তারপর পরের পৃষ্ঠার ছকে নোট রাখো। পরের সেশনে শুনে নিও অন্যদের কী মত!

আমরা এমন কী কী করছি যাতে বাতাসে গ্রিনহাউজ গ্যাস বেড়ে যায়?এই কাজের সাথে গ্রিনহাউজ গ্যাস বাড়ার সম্পর্ক কী?
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………
………………………………………………………………

বাড়ির কাজ

* গ্রিনহাউজ ইফেক্ট ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের আরো অন্য কারণও আছে। তার মাঝে একটি হলো অ্যাসিড বৃষ্টি। বাতাসে জলীয়বাষ্পে অ্যাসিড মিশে থাকলে তা বৃষ্টির সাথে পৃথিবীতে এসে পড়ে। তোমরা ভাবতেই পারো যে, এ আর এমন কী? বৃষ্টির অ্যাসিড ক্ষতিকারক হলে তো আমরা সব ঝলসেই যেতাম। একটা ছোট্ট কাজের মাধ্যমেই আমরা কিন্তু এর প্রভাব নিজেরাই দেখতে পারি!

১ বাসায় দুইটি গাছের পাতা নাও। প্রথম পাতায় কয়েক ফোঁটা পানি, আর দ্বিতীয় পাতায় কয়েক ফোঁটা অ্যাসিড দিয়ে রেখে দাও। অ্যাসিড কোথায় পাবে ভাবছো? আমাদের প্রায় বাসাতেই রান্নায় ভিনেগার ব্যবহার করা হয়, সেটাও কিন্তু এক ধরনের অ্যাসিড! আবার আর কিছু না পেলে লেবুর রসও ব্যবহার করতে পারো, লেবুর রসেও একধরনের অ্যাসিড থাকে, এর নাম সাইট্রিক অ্যাসিড।

কয়েক ঘণ্টা বা একদিন পর পাতা দুইটি ভালো করে খেয়াল করে দেখো। কোনো পরিবর্তন দেখছো কি? দেখলে নিচে নোট করে রাখো, বা পাতার চেহারা কী দাঁড়িয়েছে তা এঁকেও রাখতে পারো-

পানির ফোঁটা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরের অবস্থাঅ্যাসিড/ভিনেগার/লেবুর রসের ফোঁটা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরের অবস্থা

নবম সেশন

কে এই সেশনের শুরুতেই তোমরা আগের দিন বাসায় যে পরীক্ষা করেছো তা একটু আলোচনা করে দেখো তো! অ্যাসিড দেয়ায় গাছের পাতায় কী পরিবর্তন দেখেছো তা পাশের বন্ধুর সাথে শেয়ার করো, ক্লাসের বাকিদের সাথেও শেয়ার করো। সবার ফলাফল কি মোটামুটি মিলে যাচ্ছে?

পাশের বন্ধুর সাথে মিলে অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে অ্যাসিড বৃষ্টির অংশটুকু পড়ে নাও। শিক্ষকসহ বাকিদের সাথে আলোচনা করে দেখো, অ্যাসিড বৃষ্টি কেন হয়। অ্যাসিড বৃষ্টির ফলাফলের একটা ছোট নমুনা তো তোমরা ইতোমধ্যেই দেখেছো, লম্বা সময় ধরে এমন হলে উদ্ভিদসহ জীববৈচিত্র্যের উপর কেমন প্রভাব পড়বে তা তো অনুমানই করতে পারছো।

লম্বা সময় এই বৃষ্টির আর কী কী প্রভাব পড়ে তাও দেখে নাও। তোমাদের কি এই বিষয়ে কিছু করার আছে? চিন্তা করে দেখো তো!

আগের সেশনের কথা অনুযায়ী তুমি আর তোমার বন্ধুরা নিশ্চয়ই যথেষ্ট তথ্য জোগাড় করেছো গ্রিনহাউজ গ্যাস বাড়ানোর পেছনে আমাদের ভূমিকা কেমন তা নিয়ে! এবার একটু দলে ভাগ হয়ে আলোচনা করে দেখো দলের বাকিদের মত কী।

সবার পাওয়া তথ্য একত্র করে সবগুলো কারণ যাচাই বাছাই করে দেখো, এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি কারণ শনাক্ত করো যেগুলো আমরা চাইলে খুব সহজেই প্রতিকার করতে পারি; বা সবসময় নিজেরা না পারলেও অন্যদের বোঝাতে অন্তত পারি যাতে সবাই সবার জায়গা থেকে নিজের আচরণে পরিবর্তন আনে।

সবাই মিলে একটা পরিকল্পনার দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারো, এরপর নিচে তোমাদের চিন্তাগুলো গুছিয়ে লিখে রাখো

আমাদের যে পাঁচটি কাজের জন্য
বাতাসে গ্রিনহাউজ গ্যাস বেড়ে যায়
 কীভাবে এর সমাধান করা সম্ভব

শুধু নিজেরা পরিকল্পনা করে বসে থাকলে তো হবে না, বরং কাজগুলো করতেও হবে। তার আগে ক্লাসে অন্য দলগুলোর সাথে নিজেদের পরিকল্পনাগুলো শেয়ার করো। সবার মতামত নাও, হয়ত অন্যদের মতামত থেকে আরো দারুণ কিছু আইডিয়া যোগ হতে পারে তোমাদের পরিকল্পনায়!

সবগুলো দলের পরিকল্পনা শেয়ার হবার পর, নিজেরা একটা সময় বেঁধে নাও এই কাজগুলো বাস্তবায়নের জন্য। এই সময় ১৫ দিন থেকে এক মাসও হতে পারে। বাস্তবায়নের পর তোমাদের উপলব্ধি কী হয় তাও বাকিদের সাথে শেয়ার করতে ভুলো না যেন!

পরিকল্পনামাফিক সব হয়ে গিয়েছে কি? নিচে নোট করে রাখো তোমার অনুভুতি!

তোমাদের দলের পরিকল্পনা কী ছিল? পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তোমার অভিজ্ঞতা কেমন হলো?

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

কোনো চ্যালেঞ্জে কি পড়েছো? চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তোমার দল কী উদ্যোগ নিয়েছে?

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট হয় এমন আর কোনো বিষয় কি তোমার চোখে পড়েছে? এর সমাধানে কী করা যায় বলে তুমি মনে করো?

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

………………………………………………………………………………………………………………………………

আরো পড়ুন : চলো নৌকা বানাই!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: এই কনটেন্ট কপি করা যাবেনা! অন্য কোনো উপায়ে কপি করা থেকে বিরত থাকুন!!!