রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন পড়ে কী বুঝলাম

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন পড়ে কী বুঝলাম? ষষ্ঠ শ্রেণির প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জন্য আজ আলোচনা করবো বাংলা বিষয়ের পঞ্চম অধ্যায় বুঝে পড়ি লিখতে শিখি তৃতীয় পরিচ্ছেদের তথ্যমূলক লেখা রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এ দেওয়া প্রথম কাজ পড়ে কী বুঝলাম

এই কাজে শিক্ষক তোমাদেরকে অনুচ্ছেদটি পড়ার পর রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন পড়ে কী বুঝলাম সে বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্ন করবেন। এগুলো তোমরা দলে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে।

তথ্যমূলক লেখা বলতে কী বুঝি?

তথ্যকে সাজিয়ে তথ্যমূলক লেখা তৈরি করা হয়। মূলত তথ্য উপস্থাপন করা হয় যেসব রচনায়, সেগুলো তথ্যমূলক লেখা। তথ্য নানা ধরনের হতে পারে। তাই তথ্যমূলক লেখাও নানা রকম হয়। জীবনীও এক ধরনের তথ্যমূলক লেখা। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের বিশ্বকোষ গ্রন্থে কিংবা অনলাইনে উইকিপিডিয়ায় বহু ধরনের তথ্যমূলক লেখা পাওয়া যায়। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচনাটি একটি তথ্যমূলক লেখা।

তথ্যমূলক লেখার সাধারণ কিছু নিয়ম নিচে উল্লেখ করা হলো –

  • ১. কী নিয়ে লেখা হবে, তা ঠিক করতে হয়।
  • ২. লেখাটিতে কি ধরনের তথ্য থাকবে, তা নিয়ে ভাবতে হয়।
  • ৩. প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হয়।
  • ৪. ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তথ্যগুলো সাজাতে হয়।
  • ৫. বিষয়ের সাথে মিল রেখে লেখাটির একটি শিরোনাম তৈরি করতে হয়।
  • ৬. তথ্যকে স্পষ্ট করতে ছবি, ছক, সারণি ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন পড়ে কী বুঝলাম

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন পড়ে কী বুঝলাম

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে এই লেখাটি লেখা হয়েছে। এটি রচনা করেছেন সেলিনা হোসেন। তিনি বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত লেখক।

ক. এই লেখায় কী ধরনের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে?সেলিনা হোসেনের রচনাটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ও তথ্যপূর্ণ উপস্থাপনা। এটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নারীবাদী চিন্তা এবং অবদান সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

সেলিনা হোসেন রচিত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচনায় বিভিন্ন ধরনের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন ও কর্ম,
২. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাহিত্যকর্ম,
৩. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নারীবাদী চিন্তা,
৪. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদান।
খ. এই লেখার কোন তথ্যটি তোমার ভালো লেগেছে?এই লেখাটিতে সবচেয়ে ভালো লেগেছে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগ ও আকর্ষণ। আর মেয়েদের শিক্ষা ও উন্নতির জন্য জীবন ভর প্রচেষ্টা।
গ. এ ধরনের আর কী কী রচনা তুমি আগে পড়েছ?এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে এ ধরনের লেখা পড়েছি।
ঘ. কাদের নিয়ে এ ধরনের লেখা তৈরি করা হয়?যারা বিখ্যাত মানুষ মানুষের জন্য অনেক কিছু করে গিয়েছেন। এমন সুপরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে এ ধরনের লেখা তৈরি হয়।
ঙ. এই লেখা থেকে নতুন কী কী জানতে পারলে?সেলিনা হোসেন রচিত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচনা থেকে আমি অনেক কিছু জানতে পেরেছি। আমি জানতে পেরেছি যে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন অসামান্য নারী ছিলেন যিনি নারী শিক্ষা ও নারী অধিকারের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

তিনি একজন লেখিকা, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং নারীবাদী ছিলেন। তিনি তার সাহিত্যকর্মে নারীদের প্রতি বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। তিনি নারীদেরকে শিক্ষা, স্বাধীনতা ও সমতা অর্জনের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। তিনি নারীদেরকে তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিলেন।

তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতাগুলিকে পেরিয়ে নারী শিক্ষা ও নারী অধিকারের জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি তার অসামান্য কাজের জন্য আজও স্মরণীয়।

সেলিনা হোসেন রচনাটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ও তথ্যপূর্ণ উপস্থাপনা। এটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নারীবাদী চিন্তা এবং অবদান সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। আমি এই রচনাটি পড়ে অনেক কিছু শিখেছি এবং আমি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে একজন শ্রদ্ধাশীল ও অনুসরণীয় ব্যক্তি হিসেবে মনে করি।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন পড়ে কী বুঝলাম

সেলিনা হোসেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম, শিক্ষা, বিবাহ, পরিবার, সাহিত্যকর্ম, নারীবাদী চিন্তা এবং অবদান সম্পর্কে লিখেছেন। তিনি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাহিত্যকর্মের বিশ্লেষণ করেছেন এবং তার নারীবাদী চিন্তার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদানের প্রশংসা করেছেন এবং তাকে একজন মহান নারীবাদী হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সেলিনা হোসেনের রচনাটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ও তথ্যপূর্ণ উপস্থাপনা। এটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নারীবাদী চিন্তা এবং অবদান সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন পড়ে কী বুঝলাম? আশা করছি, বাংলা বিষয়ের পঞ্চম অধ্যায় বুঝে পড়ি লিখতে শিখি তৃতীয় পরিচ্ছেদের তথ্যমূলক লেখা রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এ দেওয়া প্রথম কাজ পড়ে কী বুঝলাম অংশটি বুঝতে পেরেছো।

এক নজরে দেখে নিই বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কে ছিলেন?

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) ছিলেন একজন বাঙালি লেখিকা, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং নারীবাদী। তিনি বাংলার মুসলিম সমাজে নারী শিক্ষা ও নারী অধিকারের অগ্রদূত ছিলেন। তিনি ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জহিরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবেরা চৌধুরী এবং মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৯৮ সালে সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনকে বিয়ে করেন। তাদের তিন সন্তান ছিল। সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুর পর রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তার সন্তানদেরকে একা মানুষ করেন। তিনি তার স্বামীর সাহায্যে ১৯০৯ সালে ভাগলপুরে নারীশিক্ষার জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এই স্কুলটি পরবর্তীতে কলকাতার লর্ড সিনহা রোডে স্থানান্তরিত হয় এবং এর নাম হয় “সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল”।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন পড়ে কী বুঝলাম

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন লেখিকাও ছিলেন। তিনি বাংলায় বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ ও উপন্যাস রচনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য রচনাগুলির মধ্যে রয়েছে “সুলতানার স্বপ্ন”, “বিলাসিনী”, “প্রবাসী”, “মোহসিনা”, “সতী”, “বিধবা বিবাহ” ইত্যাদি। তার রচনাগুলিতে তিনি নারী শিক্ষা, নারী অধিকার, নারী ও পুরুষের সমতা, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন সমাজকর্মীও ছিলেন। তিনি নারীদের শিক্ষা, স্বাধীনতা ও সমতা অর্জনের জন্য কাজ করেছেন। তিনি নারীদেরকে তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি ১৯১৬ সালে “বঙ্গীয় মহিলা সমিতি” প্রতিষ্ঠা করেন। এই সমিতি নারীদের শিক্ষা, স্বাধীনতা ও সমতা অর্জনের জন্য কাজ করেছে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদানগুলি নিম্নরূপ:

  • তিনি বাংলার মুসলিম সমাজে নারী শিক্ষার পথিকৃৎ ছিলেন। তিনি ১৯০৯ সালে ভাগলপুরে নারীশিক্ষার জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এই স্কুলটি পরবর্তীতে কলকাতার লর্ড সিনহা রোডে স্থানান্তরিত হয় এবং এর নাম হয় “সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল”।
  • তিনি নারী অধিকারের একজন অগ্রদূত ছিলেন। তিনি তার রচনাগুলিতে নারী শিক্ষা, নারী অধিকার, নারী ও পুরুষের সমতা, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি নারীদেরকে তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
  • তিনি ১৯১৬ সালে “বঙ্গীয় মহিলা সমিতি” প্রতিষ্ঠা করেন। এই সমিতি নারীদের শিক্ষা, স্বাধীনতা ও সমতা অর্জনের জন্য কাজ করেছে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদানগুলি বাংলার মুসলিম সমাজের নারীদের জীবনকে বদলে দিয়েছে। তিনি নারী শিক্ষা, নারী অধিকার, নারী ও পুরুষের সমতা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তার অবদানগুলি আজও নারীদের জন্য অনুপ্রেরণাস্বরূপ।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বাংলার মুসলিম সমাজে নারী শিক্ষা ও নারী অধিকারের অগ্রদূত ছিলেন। তিনি তার অসামান্য কাজের জন্য আজও স্মরণীয়।

আরো দেখুন-

এছাড়াও সকল বিষয়ের নমুনা উত্তরসমূহ পাওয়ার জন্য আমাদের ফেসবুক গ্রুপ জয়েন করে নাও, ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করো এবং ফেসবুক পেজটি লাইক এবং ফলো করে রাখো। তোমার বন্ধুকে বিষয়টি জানানোর জন্য আমাদের ওয়েবসাইটটি তার খাতায় নোট করে দিতে পারো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: এই কনটেন্ট কপি করা যাবেনা! অন্য কোনো উপায়ে কপি করা থেকে বিরত থাকুন!!!