ম্যাজিক গল্পটির সারসংক্ষেপ, গল্পের সাথে জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজি

ম্যাজিক গল্পটির সারসংক্ষেপ, গল্পের সাথে জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজি। ষষ্ঠ শ্রেণির প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জন্য আজ আলোচনা করব বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ অধ্যায় সাহিত্য পড়ি লিখতে শিখি গল্প পড়ি ১ এর ম্যাজিক গল্পটির সারসংক্ষেপ, গল্পের সাথে জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজি

শিক্ষকের নির্দেশ অনুযায়ী তোমরা দলে ভাগ হও। এ গল্পে কী বলা হয়েছে, তা দলে আলোচনা করে বোঝার চেষ্টা করো। কোন দল কেমন বুঝতে পেরেছে, তা যাচাই করার জন্য এক দল অপর দলকে প্রশ্ন করবে। এজন্য আগেই দলে আলোচনা করে কাগজে কয়েকটি প্রশ্ন লিখে রাখো।

ম্যাজিক গল্পটির সারসংক্ষেপ

‘ম্যাজিক’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত গল্প। বাংলা ভাষায় ছোটোগল্প সবচেয়ে আধুনিক। গল্প এক ধরনের গদ্য রচনা, যেখানে কাহিনি ও চরিত্র থাকে। গল্পের কাহিনি সাধারণ ঘটনার চেয়ে একটু আলাদা হয়। এই কাহিনি বাস্তব জীবনে ঘটে এমন হতে পারে, আবার কাল্পনিকও হতে পারে। এদিক থেকে গল্প দুই ধরনের। বাস্তবের মিল আছে এমন গল্প এবং কাল্পনিক বিষয় নিয়ে রচিত গল্প।

ম্যাজিক গল্পটির সারসংক্ষেপ, গল্পের সাথে জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজি

‘ম্যাজিক’ গল্পে দেখা যায়, টুটু পা পিছলে পড়ে গিয়ে সোনার চুড়ি ভেঙে দু’টুকরো করে ফেলে। বাবাকে দেখিয়ে মা চুড়ির টুকরো দুটো বিছানার বালিশের তলায় কোথাও খুঁজে রেখেছিলেন। এখান থেকেই গণ্ডগোলের সূচনা। রাখার সময় যত্নের অভাব ছিল না। কিন্তু পরে মা টুকরো দুটো বিছানা-বালিশের কোথাও আর খুঁজে পান না। এতে সবাই তাজ্জব বনে যায়। তাহলে গেল কোথায়? টুকরো দুটো কি হাওয়া হয়ে গেল? কিন্তু বাবার মনে হলো বালিশের তলায় রাখতে গিয়ে মা হয়তো টুকরো দুটো বালিশের ওয়াড়ের ভেতরে রেখে দিয়েছেন।

বাবার কাছে ব্যাপারটা ম্যাজিকের মতোই মনে হতে লাগল। এই চিন্তা থেকে বাবার হাসি পেল এবং মাকে চমকে দিয়ে বললেন, এই ঘরে খুঁজে পাওয়া যাবে। বালিশের ওয়াড়ের ভেতরে খুঁজে দেখো। শেষ পর্যন্ত বাবার চিন্তাই ঠিক হলো। সেখানেই চুড়ির টুকরো পাওয়া গেল। অর্থাৎ বালিশের তলা ভেবে টুটুর মা চুড়ির টুকরোগুলো ওয়াড়ের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ তন্ন তন্ন করে খুঁজেও না পেয়ে মনের মধ্যে জেগে উঠেছিল কত রকম সন্দেহ। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে এমন ম্যাজিকের ঘটনা ঘটেছে। তাই যেকোনো কাজ ঠান্ডা মাথায় করা উচিত।

ম্যাজিক গল্পের সাথে জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজি

‘ম্যাজিক’ গল্পের সাথে তোমার জীবনের বা চারপাশের কোনো মিল খুঁজে পাও কি না, কিংবা কোনো সম্পর্ক
খুঁজে পাও কি না, তা নিচে লেখো।

‘ম্যাজিক’ গল্পের সাথে আমার জীবনের একটি ঘটনা মিলে যায়। ঘটনাটি হলো- সেদিন ছিল শুক্রবার। বিকালবেলা আমি ব্যাডমিন্টন খেলছিলাম ড্রইং রুমে। বাবা বসে এক কোনায় ল্যাপটপ চালিয়ে জরুরি কাজ করছিলেন। অমনি আমার ফ্লাওয়ারটি বাবার কাছে পড়ল। বাবা রেগে গিয়ে ফ্লাওয়ারটি খুব জোরে ডাইনিং স্পেসের দিকে ছুড়ে মারলেন। আমি গিয়ে ওটি খুঁজতে শুরু করলাম। অনেকক্ষণ ডাইনিং টেবিলে, নিচে ও আশপাশে খুঁজলাম। কিন্তু কোথাও খুঁজে না পেয়ে বেডরুমে গিয়ে কান্না শুরু করলাম।

ম্যাজিক গল্পটির সারসংক্ষেপ, গল্পের সাথে জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজি

আমার কান্না শুনে মা এগিয়ে এলেন এবং খুঁজতে লাগলেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজে না পেয়ে মা সরাসরি বাবাকে বকতে শুরু করলেন। মায়ের বকা শুনে আব্বু এসে খুঁজতে লাগলেন। অনেকক্ষণ খুঁজে আমরা সবাই ব্যর্থ হয়ে ঘেমে উঠেছি। বাবা বুঝতেই পারছেন না মুহূর্তের মধ্যে এটি কোথায় হাওয়া হয়ে গেল। বাবা ও মায়ের কপালে দুশ্চিন্তার ছাপ। কী হতে পারে বা কোথায় হারিয়ে গেল এটি তা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। বড় আপা এতক্ষণ পড়ছিল আর আইসক্রিম খাচ্ছিল। আইসক্রিমের কাঠি ফেলতে গিয়ে ময়লার ঝুড়িতে দেখতে পেল আমার ফ্লাওয়ারটি এমনভাবে পড়ে আছে যা বাইরে থেকে হঠাৎ বোঝা যায় না। সকলের ঘাম ঝরিয়ে অবশেষে এটি ময়লার ঝুড়িতে আবিষ্কার করা হলো। এই ঘটনাটির ম্যাজিক’ গল্পের সাথে কিছুটা সাদৃশ্য রয়েছে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

ম্যাজিক গল্পের সাথে জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজি

রবীন্দ্রোত্তর বাংলা সাহিত্যের একজন উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক ছিলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণ জনগণের জীবনে থাকা সুখ, দুঃখ, স্বপ্ন, আশা, নিরাশা ইত্যাদি সকল রকম পরিস্থিতি তাঁর রচনায় গভীরতার সাথে ফুটে উঠেছিল। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মপরিচয়ে নিজের সাহিত্যসৃষ্টি সম্পর্কে বলেছিলেন যে , “সচেতনভাবে বাস্তববাদের আদর্শ গ্রহণ করে সেই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সাহিত্য করিনি বটে , কিন্তু ভাবপ্রবণতার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিক্ষোভ সাহিত্যে আমাকে বাস্তবকে অবলম্বন করতে বাধ্য করেছিল।”

মানিক বন্দোপাধ্যায় একজন সুখ্যাত ভারতীয় তথা বাঙালি কথাসাহিত্যিক, যার প্রকৃত নাম ছিল প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের জীবনের অতি ক্ষুদ্র পরিসরে চল্লিশটি উপন্যাস এবং তিনশত ছোটোগল্প রচনা করেন তিনি। তাঁর বেশ কিছু রচনা ইংরেজি সহ বহু বিদেশি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।

ম্যাজিক গল্পটির সারসংক্ষেপ, গল্পের সাথে জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজি

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিহার রাজ্যের সাঁওতাল পরগনার অন্তর্গত দুমকায়। ১৯০৮ সালের ২৯ শে মে তাঁর জন্ম হয়। সাহিত্যিকের পিতার নাম ছিল হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাতা ছিলেন নীরদাসুন্দরী। ঢাকার বিক্রমপুর পরগণার মালপদিয়া গ্রামে তাদের পিতৃনিবাস ছিল। বিখ্যাত এই লেখকের পিতৃদত্ত নাম প্রবােধচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে জন্মকালে তাঁর মুখশ্রী ছিল অত্যন্ত সুন্দর এবং গায়ের রঙ উজ্জ্বল কালাে ছিল। আঁতুরঘরে থাকাকালীন সময়ে থেকেই সকলে তাঁকে ‘ কালাে মানিক ’ বলে ডাকতে শুরু করে। পরবর্তীকালে এই নামেই তিনি খ্যাত হয়ে ওঠেন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষা পাশ করেন এবং পরবর্তীতে বাঁকুড়া ওয়েসলিয় মিশন কলেজ থেকে ১৯২৮ সালে আই.এস.সি. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। অতঃপর তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিত বিষয়ে অনার্স শিক্ষার উদ্দেশ্যে ভর্তি হন। উক্ত কলেজে অধ্যয়ন করার সময়ই বিচিত্রা পত্রিকায় মানিক বন্দোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গেই সাহিত্যজগতে সাড়া পড়ে যায়।

ম্যাজিক গল্পটির সারসংক্ষেপ, গল্পের সাথে জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজি

স্বনামধন্য সাহিত্যিক যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন অবিরামভাবে লিখে গেছেন এবং রচনা করেছেন বহু গল্পগ্রন্থ, এমনকি তাঁর রচনায় রয়েছে একটি নাটকও। উল্লেখযােগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে —

  • ● পরিস্থিতি (১৯৪৬)
  • ● খতিয়ান (১৯৪৭)
  • ● মাটির মাশুল (১৯৪৮)
  • ● ছোট বড় (১৯৪৮)
  • ● ছোট বকুলপুরের যাত্রী (১৯৪৯)
  • ● ফেরিওলা (১৯৫৩)
  • ● লাজুকলতা (১৯৫৪)

তাঁর রচিত সাহিত্যে বস্তুবাদের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। মনুষ্যত্ব তথা মানবতাবাদের জয়গানই ছিল তাঁর সাহিত্যের মূল উপজীব্য। বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামীণ হতদরিদ্র জনগণের জীবনচিত্রও তিনি নিজের বেশকিছু লেখায় তুলে ধরেছিলেন। তাই তাঁর লেখাগুলো খুব সহজেই মানুষের মন জয় করতে এবং কম সময়ের মধ্যে তাঁকে লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিল।

আরো দেখুন-

এছাড়াও সকল বিষয়ের নমুনা উত্তর সমূহ পাওয়ার জন্য আমাদের ফেসবুক গ্রুপ জয়েন করে নাও ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করো এবং ফেসবুক পেজটি লাইক এবং ফলো করে রাখুন। তোমার বন্ধুকে বিষয়টি জানানোর জন্য আমাদের ওয়েবসাইটটি তার খাতায় নোট করে দিতে পারো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: এই কনটেন্ট কপি করা যাবেনা! অন্য কোনো উপায়ে কপি করা থেকে বিরত থাকুন!!!