বিদ্যালয়কে আরো সুন্দর করার জন্য যা যা করা যেতে পারে

চলো এবার জেনে নেই বিদ্যালয়কে আরো সুন্দর করার জন্য যা যা করা যেতে পারে সে বিষয়ে। একটি বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কেবলমাত্র প্রশাসন ভূমিকা রাখবে বিষয়টি এমন নয় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইডিয়ার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি করা যায়।

ষষ্ঠ শ্রেণির সাম্মাসিক বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন বাংলা বিষয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার দ্বিতীয় কাজটি হচ্ছে যোগাযোগ করা সংক্রান্ত অ্যাসাইনমেন্ট। এই অংশে বয়স ও সম্পর্কের বৈচিত্র্যতা বিবেচনায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় সমূহ ছাড়াও আরো একটি কাজ হচ্ছে যোগাযোগ করার বিভিন্ন পদ্ধতি।

পূর্বের আলোচনায় আমরা জেনেছি বয়স ও সম্পর্কের বৈচিত্রতা বিবেচনায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলো সম্পর্কে এবং প্রমিত ভাষার ব্যবহার – শব্দের অপ্রমিত/আঞ্চলিক উচ্চারণ এবং প্রমিত উচ্চারণ নিয়ে জেনেছিলাম। যারা দেখ নাই এখনি দেখে নিতে পারো। 

বিদ্যালয়কে আরো সুন্দর করার জন্য

এখানে শিক্ষার্থীরা তিনটি বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে অথবা পরিচিতদের সাথে অথবা শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে তথ্য সংগ্রহ করে নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকের কাছে জমা দিবে। নিচে এ বিষয়গুলোর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো 

বিদ্যালয়কে আরো সুন্দর করার জন্য যা যা করা যেতে পারে

এই কাজগুলো করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে দলগতভাবে আলোচনা করবে এবং আলোচনার বিষয়গুলো একটি কাগজে নোট করতে হবে এরপর উত্থাপিত বিষয়গুলো একত্র করে পরিবারের বড় একজনের সাথে অথবা শিক্ষকের সাথে আলোচনা করে মতামত সংগ্রহ করবে। 

তোমাদের জন্য বিষয়টিকে সহজ করার জন্য প্রত্যেকটি টপিকের উপর আলোচ্য সূচি বা আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো;

এই আলোচনা করার ক্ষেত্রে অবশ্যই তুমি যে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছো সে বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা এবং অবকাঠামগত দিক বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এই মুহূর্তে আমরা বিদ্যালয়কে আরো সুন্দর করার জন্য যা যা করা যেতে পারে তার মৌলিক কিছু বিষয় উল্লেখ করলাম- 

বিদ্যালয়কে আরো সুন্দর করার জন্য যা যা করা যেতে পারে

১. সবুজায়ন

বিদ্যালয়কে সুন্দর ও মনোরম করার জন্য পর্যাপ্ত ফুল, ফল  ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে সবুজায়ন করা যেতে পারে। গাছ গাছালিতে পরিপূর্ণ বিদ্যালয়ের আঙিনা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশকে আরো উন্নত করতে সহযোগিতা করবে এবং বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে। 

২. শৈল্পিক ম্যুরাল এবং ওয়াল পেইন্টিং স্থাপন

বিদ্যালয়ের মাঠ এবং আশপাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে দেশীয় বিভিন্ন ইতিহাস ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ শৈল্পিক মোড়ল স্থাপন করা যেতে পারে এবং দেয়ালগুলোতে ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন চিত্র পেইন্টিং করা যেতে পারে। 

৩. বিভিন্ন নির্দেশক বা সাইনবোর্ড স্থাপন

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী,  শিক্ষক,  অভিভাবক ও বিভিন্ন সময়ে আগত দর্শনার্থীদের গাইড করার জন্য বিভিন্ন সাইন এর বোর্ড লাগানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক। যেমন শ্রেণিকক্ষের সামনে কক্ষগুলোর নাম,  শৌচাগারের সামনে বিভিন্ন চিহ্নের মাধ্যমে পুরুষ মহিলার এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শৌচাগার আলাদা করনের জন্য সাইন ব্যবহার,  কম্পিউটার ল্যাবের সামনে কম্পিউটার ল্যাব খচিত বিভিন্ন সাইন ব্যবহার  করা যেতে পারে। 

এভাবে সকল স্থাপনার সামনে সাইন এবং তথ্যসমৃদ্ধ রোড স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যালয় কে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে তোলা যেতে পারে। 

৪. বিদ্যালয়ের অবকাঠামগত উন্নয়ন

জরাজীর্ণ এবং ব্যবহারের অনুপযোগী ভবনগুলো উন্নয়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পরিবেশের উন্নতি করা যায়। বিদ্যালয়ের ভবন এবং অন্যান্য অবকাঠামাগুলো যেসব জায়গায় সংস্কার প্রয়োজন সেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের আকর্ষণ বৃদ্ধি করা যাবে। 

৫. শ্রেণীকক্ষ সজ্জিত করণ

প্রত্যেকটি শ্রেণীকে শিক্ষামূলক এবং প্রেরণাদায়ক বিভিন্ন পোস্টার,  চার্ট এবং শিল্পকর্ম দিয়ে সাজানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষকরা দেশীয় সহযোগ্য উপকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ প্রস্তুত করে শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে স্থাপন করতে পারেন। 

শিক্ষা উপকরণ দিয়ে শ্রেণীকক্ষ সজ্জিত করলে শিক্ষার্থীদের শেখার উন্নত পরিবেশ তৈরি হয় এবং বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। 

৬. পরিকল্পিত এলাকা প্রস্তুতকরণ

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অঞ্চল যেমন করিডোর,  অ্যাসেম্বলি হল এবং ক্যাপিটেরিয়ার মত সাধারণ এলাকাগুলো সুন্দরভাবে স্থাপন করতে হবে যেগুলোতে উপযুক্ত আলো এবং আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা থাকবে আর সেই সাথে নান্দনিক সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। 

এই সকল স্থানগুলো সুন্দর শৈল্পিক ডিজাইন এবং শিক্ষা মূলক বিভিন্ন চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে বিদ্যালয় কে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা যায়। 

৭. পরিকল্পিত খেলার মাঠ

বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ এবং আঙিনা সেই সাথে বসার জায়গা গুলো খুব ভালোভাবে পরিকল্পনা করে স্থাপন করতে হবে। খেলার মাঠ নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বিষয়টি আনন্দদায়ক এবং আরামদায়ক করতে হবে। 

একটি পরিকল্পিত খেলার মাঠ একটি বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শারীরিক কশরত এবং খেলাধুলায় মনোযোগী করার জন্য খেলার মাঠ কে সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে

৮. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

বিদ্যালয়ের আঙিনা, শ্রেণীকক্ষ, অফিস কক্ষ, খেলার মাঠ সহ সকল স্থাপনাকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিচ্ছন্ন বিদ্যালয়ের আঙিনা শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগ স্থাপন করে এবং বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। 

দক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন টিম গঠনের মাধ্যমে সপ্তাহে এবং দৈনিক রুটিন মাফিক বিদ্যালয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করা যেতে পারে সেইসাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দক্ষ পর্যাবস্থাপনার জন্য কর্মী নিয়োগ দিতে পারেন। 

৯. আসবাবপত্র মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ

বিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের একটি বড় অংশ হচ্ছে শ্রেণী কক্ষ। শ্রেণিকক্ষ সহ বিদ্যালয়ের সকল স্থানে যে সকল আসবাবপত্র রয়েছে তা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন করা যায়। 

১০. শিক্ষার্থীদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজে অংশগ্রহণ করানো

শিক্ষকগণ তাদের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির বিভিন্ন কাজ ভাগ করে দিতে পারেন। এতে করে খুব অল্প পরিশ্রমে বিদ্যালয়েটি সুন্দর হয়ে উঠবে এবং শিক্ষার্থীরা পরবর্তী পৃথিবীতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য প্রস্তুত হবে। 

বিদ্যালয়কে আরো সুন্দর করার জন্য যা যা করা যেতে পারে

বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তোমাদের জন্য প্রস্তাব করা হলো। তোমাদের বিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এ বিষয়গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বাড়ানো যাবে;

১১. রাতের বেলা সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন জায়গায় আকর্ষণীয় লাইট স্থাপন;

১২. শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্ম প্রদর্শনের জন্য একটি আর্ট গ্যালারি বা প্রদর্শনের স্থান প্রস্তুত করা;

১৩. ছাত্র, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সমন্বয়ে একটি স্কুল বিউটিফিকেশন কমিটি গঠন;

১৪. প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নত করার জন্য একটি সুন্দর ফুলের বাগান, বা একটি ছোট পুকুর স্থাপন;

১৫. বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের চারিপাশে দর্শনার্থীদের বসার জন্য আকর্ষণীয় চেয়ার স্থাপন;

১৬. শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন;

১৭. শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সৃজনশীল লেখনী প্রদর্শনের জন্য বা চিত্র প্রদর্শনের জন্য একটি প্রকাশনা বোর্ড স্থাপন;

১৮. বিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ চিত্র অংকন এবং শিক্ষামূলক বিভিন্ন বাণী প্রদর্শন;

১৯. Recycle করা যায় এরকম দ্রব্য সামগ্রী ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম প্রস্তত;

২০. শিক্ষার্থীদের প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে অবগত করার জন্য এবং বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য একটি সুন্দর ফুলের বাগান বা ফলের বাগান বা ওষুধি বৃক্ষের বাগান বা কাঠ গাছ সমৃদ্ধ বাগান করা যেতে পারে;

২১. বিদ্যালয়ের ভবনের আশপাশে ঔষধি বা কাঠগাছ রোপন করা যেতে পারে;

২২. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অর্জনের সচিত্র প্রদর্শনীর জন্য একটি ফটো গ্যালারী স্থাপন করা;

২৩. শিক্ষার্থীদের নৈতিকতাবোধ বৃদ্ধি করার জন্য একটি সততা তোর স্থাপন করা যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা নিজে পণ্য কিনে আবার সেটি নিজেই বিল পরিশোধ করে আসবে;

২৪. গরিব শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ের সহযোগিতা করার জন্য মানবতার দেয়াল স্থাপন;

উপরোক্ত আইডিয়াগুলো থেকে তোমার পছন্দমত কয়েকটি আইডিয়া একটি খাতায় লিখে তোমার নাম রোল উল্লেখ করে স্বাক্ষর সহ দলনেতার কাছে জমা দিবে বা শিক্ষকের নিকট জমা দিবে। এটি তোমার মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছি। 

বিদ্যালয়কে আরো সুন্দর করার জন্য যা যা করা যেতে পারে

এছাড়াও সকল বিষয়ের নমুনা উত্তর সমূহ পাওয়ার জন্য আমাদের ফেসবুক গ্রুপ জয়েন করে নাও ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করো এবং ফেসবুক পেজটি লাইক এবং ফলো করে রাখুন। তোমার বন্ধুকে বিষয়টি জানানোর জন্য আমাদের ওয়েবসাইটটি তার খাতায় নোট করে দিতে পারো। 

৬ষ্ঠ শ্রেণি বাংলা ষাণ্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান

প্রিয় পাঠক ২০২৩ সালের নতুনভাবে শুরু হওয়া নতুন কারিকুলাম এর আলোকে ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বিষয়ের প্রথম অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার ভাষা ও সাহিত্য উৎসবের সকলে সমাধান নিচে দেখুন। 

আপনার কাঙ্খিত কাজের শিরোনামের উপর ক্লিক করলে বিস্তারিত দেখতে পাবেন। অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের হোমপেজে গিয়ে শিখন সহায়তা নামক সেকশনে সকল শ্রেণীর সকল বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্টের নমুনা উত্তর সমূহ দেখতে। 

ক্রমিককাজের শিরোনাম ও বিস্তারিত
০১প্রমিত ভাষার ব্যবহার – শব্দের অপ্রমিত/আঞ্চলিক উচ্চারণ এবং প্রমিত উচ্চারণ
০২বয়স ও সম্পর্কের বৈচিত্র্যতা বিবেচনায় মর্যাদা বজায় রেখে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিবেচ্য
০৩বিদ্যালয়কে আরো সুন্দর করার জন্য যা যা করা যেতে পারে
০৪অন্যদের প্রিয় বই সম্পর্কে জানতে চাওয়ার উদ্দেশ্যে যে সকল প্রশ্ন করা যায়
০৫অবসর সময়ে যা করি – অন্যদের পছন্দ জানতে চাওয়ার উদ্দেশ্যে যেসকল প্রশ্ন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: এই কনটেন্ট কপি করা যাবেনা! অন্য কোনো উপায়ে কপি করা থেকে বিরত থাকুন!!!