নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

এবার আমরা জানবো নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী নিয়ে। এই বিষয়ে আপনার ধারনা কিছুটা পরিবর্তন করতে এটি সম্পূর্ণ পড়া উচিত। আপনার বন্ধুদের মাঝে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী শেয়ার করুন।

পূর্বে আলোচনায় আমরা জেনেছি সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় ও উৎসের বিবরণী এবং নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত বিষয়ে। আমার মনে হয় এই বিষয়ে আপনি সম্মক অবগত হয়েছেন এবং জাতীয় নির্বাচন সংক্রান্ত আয়-ব্যয় নিয়ে আপনার ধারনা হয়েছে।

পাঠ্যসূচী

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী

ক অংশ নির্বাচনী সময়সূচী এবং মনােনয়নপত্র দাখিলের আহ্বান সম্বলিত গণবিজ্ঞপ্তি জারী প্রসঙ্গে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১১ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী সময়সূচী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারী গেজেটে প্রকাশ করিলে রিটার্নিং অফিসার যথাশীঘ্র সম্ভব তাহার আওতাভুক্ত নির্বাচনী এলাকাসমূহের জন্য পৃথক পৃথক গণ-বিজ্ঞপ্তি জারী করিবেন [১১(২) অনুচ্ছেদ দ্রষ্টব্য (নির্বাচন কমিশন)]। উক্ত গণ-বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন কর্তৃক ঘােষিত সময়সূচীর উল্লেখ থাকিবে।

এতদৃভিন্ন রিটার্নিং অফিসারসহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনােনয়নপত্র দাখিলের স্থান ও সময় উল্লেখ করিয়া একই গণবিজ্ঞপ্তিতে মনােনয়নপত্র আহ্বান করিতে হইবে! উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মনােনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসারের অফিস চলাকালীন সময়ে অর্থাৎ সকাল ৯টা হইতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে গ্রহণের উল্লেখ করিতে হইবে।

গণ-বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার দ্রষ্টব্য স্থানসমূহে এবং উহার অনুলিপি রিটার্নিং অফিসার ও তাহার অধীনস্থ সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের অফিসের দ্রষ্টব্য স্থানসমূহে টাঙ্গাইয়া দিতে হইবে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

গণ-বিজ্ঞপ্তির একটি নমুনা ছক আপনার সুবিধার্থে এতদসঙ্গে নিম্নে উল্লেখ করা হইল

গণ-বিজ্ঞপ্তি

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১১ অনুচ্ছেদে (২) দফা অনুসারে আমি, …………………………………………… ও রিটার্নিং অফিসার এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানাইতেছি যে, জাতীয় সংসদ গঠন করিবার উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন বিগত ……………………….. তারিখে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার ভােটারদিগকে স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকা হইতে একজন জাতীয় সংসদ-সদস্য নির্বাচনের জন্য নিম্নলিখিত সময়সূচী ঘােষণা করিয়াছে:

(ক) রিটার্নিং অফিসার/সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট প্রার্থীর মনােনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ: …………..

(খ) রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনােনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ:  …………….

(গ) প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ তারিখ: ………………….

(ঘ) ভােটগ্রহণের তারিখ: …………………….

৩। পূর্বোল্লিখিত আদেশের ১১ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে … নির্বাচনী এলাকার সকল বাসিন্দাদের জ্ঞাতার্থে আমি আরও জানাইতেছি যে, আগামী ……………………… তারিখ বা তার পূর্বে যে কোন তারিখে সকাল ০৯-০০টা হইতে বিকাল ৫-০০ ঘটিকা পর্যন্ত উল্লেখিত নির্বাচনী এলাকা হইতে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিবার জন্য ইচ্ছুক প্রার্থীদের নিকট হইতে আমার এবং আমার সহকারী রিটার্নিং অফিসার/অফিসারদের কার্যালয়ে মনােনয়নপত্র গৃহীত হইবে।

রিটার্নিং অফিসার
নির্বাচনী এলাকা

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

৪। যে সমস্ত ক্ষেত্রে জেলা নির্বাচন অফিসারগণ সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নিয়ােজিত হইবেন, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে তাহারা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও অন্যান্য জেলা নির্বাচন অফিসারের ন্যায় রিটার্নিং অফিসারের স্টাফ অফিসার হিসাবেও কাজ করিবেন।

যদি কোন জায়গায় জেলা নির্বাচন অফিসারের সংখ্যা একাধিক হয়, তবে রিটার্নিং অফিসার তাহার ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোন একজন জেলা নির্বাচন অফিসারকে তাহার স্টাফ অফিসার হিসাবে নিয়ােগ করিবেন।

খ অংশ-মনােনয়নপত্র দাখিল, জামানত গ্রহণ, মনােনয়নপত্র বাছাই, আপীল দায়ের, বৈধভাবে মনােনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ, নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ ইত্যাদি প্রসঙ্গে।

মনােনয়নপত্র গ্রহণ, জামানতের অর্থ গ্রহণ বা জমা, মনােনয়নপত্র বাছাইয়ের পদ্ধতি, বৈধভাবে মনােনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ, আপীল দায়ের এবং নিষ্পত্তি, প্রার্থীপদ প্রত্যাহার ইত্যাদি সম্পর্কিত আইনগত দিকগুলি যাহা রিটার্নিং অফিসারকে অনুসরণ করিতে হইবে তাহা ধারাবাহিকভাবে নিম্নে উল্লেখ করা হইল-

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

১। মনােনয়নপত্র দাখিল এবং গ্রহণ

(অ) প্রার্থী মনােনয়নে সম্মত আছেন এবং তিনি সংসদ সদস্য হিসাবে প্রার্থী হইবার বা প্রার্থী পদে নির্বাচিত হইবার অযােগ্য নন; এবং (নির্বাচন কমিশন)

(আ) প্রস্তাবকারী এবং সমর্থনকারী কেহই প্রস্তাবকারী বা সমর্থনকারী হিসাবে অন্য কোন মনােনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী বা সমর্থনকারী হন নাই।

মনােনয়নপত্র দাখিল এবং গ্রহণ
ছবি: মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রতীকি ছবি

(২) আদেশের ১২ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে প্রত্যেক মনােনয়নপত্র প্রার্থী কিম্বা তাহার প্রস্তাবকারী কিম্বা সমর্থনকারীকে রিটার্নিং অফিসার অথবা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট জমা দিতে হইবে।

দাখিলকৃত প্রত্যেক মনােনয়নপত্রে রিটার্নিং অফিসার, ক্ষেত্রবিশেষে সহকারী রিটার্নিং অফিসার প্রাপ্তির তারিখ ও সময় উল্লেখ করিয়া মনােনয়নপত্রের প্রাপ্তি স্বীকার করিবেন।

একজন ব্যক্তিকে একই নির্বাচনী এলাকায় একাধিক মনােনয়নপত্রের মাধ্যমে মনােনীত করা যাইতে পারে। যদি কোন ব্যক্তিকে একটি নির্বাচনী এলাকায় একাধিক মনােনয়নপত্র দ্বারা মনােনয়ন করা হয়, তবে প্রথমে গৃহীত মনােনয়নপত্র ছাড়া তাহার অনুকূলে দাখিলকৃত অন্যান্য মনােনয়নপত্রগুলি বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।

(৩) আদেশের ১৩ অনুহে অসর কোন প্রার্থী একই সঙ্গে ৫(পাঁচ)টি নির্বাচনী এলাকার বেশী নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দিতার জন্য প্রার্থী হইতে পারিবেন না।

প্রত্যেক মনোনয়নপত্র সঙ্গে আবে: ১২ অনুচ্ছেতে বর্ণিত ঘােষণা ছাড়াও প্রার্থীকে এই মর্মে ঘোষণা দিতে হইবে ভাগটির বেশী নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী হন নাই। যদি কোন প্রার্থী একই ৫ টির বেশী নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী হন, তবে তাহার অনুকূলে প্রল সকল মনে তল বলিয়া গণ্য হইবে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিলকৃত মনােনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসারের নিকট প্রেরণ:

যেহেতু গণপ্রতিনি আদেশ, ১৯৭২-এর ১৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে মনােনয়নপত্র বাছাই করিবার ক্ষমতা রিটানিং অফিলকের উপর অর্পিত, সেহেতু রিটার্নিং অফিসার তাহার আওতাধীন সংশ্লিষ্ট সনি;

আফসারগণ তাহাদের নিকট দাখিলকৃত মনােনয়নপত্রসমূহ হাতে ……… কখলে সময়সীমা উত্তীর্ণ হইবার পর পরই সতর্কতার সহিত রিটার্নিং অলর ৪রণ করেন, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দিতে হইবে। (নির্বাচন কমিশন)

জামানত

(১) আদেশের ১৩ এলে তারে মনােনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থী স্বয়ং কিংবা বিধিতে বর্ণিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে জামানত হিসাবে-

(ক) নন ১০:০০ । হাজার টাকা মনােনয়নপত্রের সঙ্গে রিটার্নিং অফিসার হিকারী রিটার্ণিং অফিসারের নিকট জমা দিতে হইবে; অথবা

(খ) প্রার্থীর অং: এ, হু তার পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন শাখায় বা কোন সরকার সাব-ট্রেজারীতে বা ব্যাংকের কোন শাখায় বা রিটার্নিং অফিসার বা হারী রিটানিং অফিসারের নিকট ১০,০০০ (দশ হাজার টাক জমকানের স্বপক্ষে চালানরসিদ অথবা গেজেটেড অফিসার কর্তৃক উক্তরুপ চ’লানরসিদের সত্যায়িত অনুলিপি মনােনয়নপত্রের সঙ্গে জমানাতে হবে।

উল্লেখ্য যে জামানত হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে কোন শাখায় অথবা যে কোন ব্যাংক অথবা সরকারী ট্রেজারী অথবা সাব-ট্রেজারীতে ৬/১০৫১/০০০০/৮৪৭৩ নম্বর কোডে জমা দিতে হইবে। একটি নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীর অনুকুলে একাধিক মনােনয়নপত্র দাখিল হইলে সেই প্রার্থীর অকেলে শুধু একটি মাত্র জামানত প্রদান করিতে হইবে।

নগদ হিসাবে প্রাপ্ত জামানতের টাকা রিটার্নিং অফিসার অধবা সহকারী রির্টানিং অফিসার ৩ নং ফরমে নির্ধারিত রসিদের মাধ্যমে গ্রহণ করিবেন এবং নগদে অথবা ব্যাংক রসিদ অথবা ট্রেজারী চালান মারফত প্রাপ্ত জামানতের হিসাব বিবরণী রির্টানিং অফিসারকে ২ নং ফরমে নির্ধারিত রেজিস্টারে সন্নিবেশিত করিতে হইবে। ইহা ছাড়া রির্টানিং অফিসারকে নগদ প্রাপ্ত অর্থ উপরে বর্ণিত সরকারী খাতে জমা দিতে হইবে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

(২) আদেশের ১২ অনুচ্ছেদের (৬) দফা অনুসারে মনােনয়নপত্র দাখিল করিবার সময় রির্টানিং অফিসার কিম্বা ক্ষেত্র বিশেষে উক্ত অনুচ্ছেদের (৬ক) দফা অনুসারে সহকারী রির্টানিং অফিসারকে দাখিলকৃত মনােনয়নপত্রে ক্রমিক নম্বর, মনােনয়নপত্র দাখিলকারীর নাম, দাখিলের তারিখ ও সময় উল্লেখ করিতে হইবে। (নির্বাচন কমিশন)

ইহার পর রির্টানিং অফিসার কোথায় এবং কখন মনােনয়নপত্র বাছাই করিবেন তাহা মনােনয়নপত্রের সঙ্গে সংযােজিত ফরমে উল্লেখ করিয়া মনােনয়নপত্র দাখিলকারীকে ফরমটি হস্তান্তর করিবেন।

ইহা ছাড়া রির্টানিং অফিসার নিজের অফিসে দাখিলকৃত মনােনয়নপত্র এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট হইতে প্রাপ্ত প্রত্যেক মনােনয়নপত্রে উল্লেখিত প্রার্থীর নাম, প্রস্তাবকারীর নাম এবং সমর্থনকারীর নাম ইত্যাদি মনােনয়নপত্রে যেরূপ উল্লেখ রহিয়াছে তাহার বিবরণী সম্বলিত নােটিশ রির্টানিং অফিসারকে তাঁহার কার্যালয়ের প্রকাশ্য স্থানে টাঙ্গাইয়া জারী করিতে হইবে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

মনােনয়নপত্র বাছাইয়ের পদ্ধতি

(১) মনােনয়নপত্র বাছাইয়ের নির্দিষ্ট দিনে রিটানিং অফিসার আদেশের ১৪ অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে মনােনয়নপত্র বাছাইয়ের কাজ শেষ করিবেন। মনােনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় আইন অনুসারে প্রার্থীগণ, তাহার নির্বাচনী এজেন্টগণ, প্রস্তাবকারী এবং সমর্থনকারী এবং প্রার্থী কর্তৃক নিযুক্ত (তিনি আইনজীবীও হইতে পারেন) যে কোন একজন ব্যক্তি উপস্থিত থাকিতে পরিবেন।

(২) পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে বর্ণিত ব্যক্তিগণ যদি মনােনয়নপত্র পরীক্ষা করিয়া দেখিতে ইচ্ছা করেন তবে সে সুযােগ তাহাদিগকে প্রদান করিতে হইবে। উপস্থিত সকলের সম্মুখে রির্টানিং অফিসার মনােনয়নপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিবেন এবং কেহ কোন মনােনয়নপত্র সম্বন্ধে আপত্তি উত্থাপন করিলে তাহা নিষ্পত্তি করিবেন।

ইহা ছাড়াও কাহারাে আপত্তির ভিত্তিতে অথবা স্ব-উদ্যোগে যুক্তিযুক্ত মনে করিলে যে কোন মনােনয়নপত্রের বৈধতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত অনুসন্ধান পরিচালনা করিতে পারিবেন এবং মনােনয়নপত্র বাতিল করিতে পারিবেন, যদি রির্টানিং অফিসার সন্তুষ্ট হন যে,

(ক) প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য যােগ্য নহেন;

(খ) প্রস্তাবকারীসমর্থনকারী মনােনয়নপত্রে প্রস্তাব সমর্থন করার যােগ্য নহেন;

(গ) আদেশের ১২ এবং ১৩ অনুচ্ছেদের বিধানসমূহ যথাযথভাবে পালিত হয় নাই; অথবা

(ঘ) প্রস্তাবকারীসমর্থনকারীর দস্তখত আসল নহে।

কিন্তু সারবত্তাহীন ত্রুটির জন্য কোন মনােনয়নপত্র বাতিল করা চলিবে না। যদি বাছাইয়ের সময় এমন কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি নজরে আসে তাহা হইলে মনােনয়নপত্র দাখিলকারীর দ্বারা উহা সংশােধন করাইয়া নিতে হইবে।

কোন প্রার্থীর একটি মনােনয়নপত্র যদি বাতিল হইয়া যায় শুধু তজ্জন্যই ঐ প্রার্থীর অন্য কোন বৈধ মনােনয়নপত্র বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে না। অর্থাৎ শুধুমাত্র যে কোন একটি মনােনয়নপত্র বৈধ হইলেই তাহার প্রার্থী পদ অটুট থাকিবে।

মনােনয়নপত্র গ্রহণ অথবা বাতিল প্রসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত মনােনয়নপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করিবেন। আদেশের ১৪ অনুচ্ছেদের (৩) দফার (ড) (iii) ক্রমিকের শর্ত অনুসারে ভােটার তালিকার কোন অন্তর্ভুক্তির শুদ্ধতা অথবা বৈধতার প্রশ্নে কোন অনুসন্ধান চালানাে যাইবে না।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

(৩) মনােনয়নপত্র বাছাইকালে রিটার্নিং অফিসারকে সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর বিধানাবলীতে উল্লিখিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের যােগ্যতাঅযােগ্যতার বিষয়সমূহ অনুসরণ করিতে হইবে। যাহা হউক, সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর উদ্ধৃতাংশ নিম্নে উল্লেখ করা হল।

(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন ; এবং

(খ) তাহার বয়স ২৫ বৎসর বা তদূর্ধ হয়। কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ সদস্য থাকিবার যােগ্য হইবেন না, যদি

(ক) কোন উপযুক্ত আদালত তাহাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘােষণা করেন;

(খ) তিনি দেউলিয়া ঘােষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ করিয়া থাকেন;

(গ) তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিম্বা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘােষণা বা স্বীকার করেন;

(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে ;

(ঙ) আহয়ে স্বামী আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযােগ্য ঘােষণা করিতেছে না এমন পদ ব্যতীত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন ; অথবা

(চ) তিনি কোন আইনের দ্বারা বা অধীন অনুরূপ নির্বাচনের জন্য অযােগ্য হন।

তবে সংবিধানের এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোন ব্যক্তি কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপ-মন্ত্রী হইবার কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলিয়া গণ্য হইবেন না।

(২) ১৯৭২ সনের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-এর ১২ (১) অনুচ্ছেদের প্রথম শর্তের বিধান অনুসারে কোন ব্যক্তি জাতীয় সংসদের সদস্য পদে নির্বাচিত হইবার এবং সদস্য থাকিবার অযােগ্য হইবেন, যদি তিনি-

(ক) প্রজাতন্ত্রের অথবা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন তবে কোন ব্যক্তি কেবল প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হইবার কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলিয়া গণ্য হইবেন না।

(১) তিনি এমন কোন ব্যক্তি হন যিনি অনুচ্ছেদে ৭৩, ৭৪, ৭৮, ৭৯, ৮০, ৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪ ও ৮৬ এর অধীন কোন অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং মুক্তিলাভের তারিখের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;

(২) তিনি এমন কোন ব্যক্তি হন যাহার কোন আসনে নির্বাচন অনুচ্ছেদ ৬৩ এর দফা (১) এর উপ দফা (সি), (ডি) ও (ই) এ উল্লিখিত যে কোন কারণে অবৈধ বলিয়া ঘােষিত হয় এবং এইরূপ ঘােষণার তারিখের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;

(৩) তিনি দুর্নীতির কারণে প্রজাতন্ত্রের বা কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের কর্ম হইতে বরখাস্ত, অপসারিত বা বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত হন এবং তাহার বরখাস্ত, অপসারণ বা বাধ্যতামূলক অবসরের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;

(খ) কোন সমবায় সমিতি ও সরকারের মধ্যকার চুক্তি ব্যতীত তাহার নিজের অথবা তাহার পক্ষে বা তাহার লাভের জন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ অথবা কোন অবিভক্ত হিন্দু পরিবারের সদস্য হিসাবে কোন চুক্তিতে তাঁহার কোন অংশ বা স্বার্থ থাকা অবস্থায়, সরকারের নিকট পণ্য সরবরাহ অথবা কোন চুক্তি বাস্তবায়নে অথবা সরকার কর্তৃক গৃহীত কোন সেবামূলক কার্যক্রম সম্পাদনে সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়।

(৩) আদেশের ১২ অনুচ্ছেদের (১) দফার দ্বিতীয় শর্তের বিধান অনুসারে আরও শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হইবার এবং সদস্য থাকিবার জন্য অযােগ্য হইবেন, যদি তিনি মনােনয়নপত্র দাখিলের দিন-

(ক) বসবাসের নিমিত্তে কোন বাড়ী নির্মাণ করিতে ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত ঋণ ব্যতিরেকে ব্যাংক প্রদত্ত অন্য কোন গৃহীত ঋণের অর্থ কিম্বা উক্ত ঋণের কিস্তি পরিশােধে খেলাপী থাকেন;

(খ) এমন কোন কোম্পানীর পরিচালক কিম্বা ফার্মের অংশীদার হইয়া থাকেন যাহারা কোন ব্যাংক হইতে গৃহীত ঋণের অর্থ বা ঋণের কোন কিস্তি পরিশােধে খেলাপী থাকেন;

(গ) অর্থ ঋণ আদালত আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ৯ নং আইন)-এ সংজ্ঞায়িত কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হইয়া ব্যাংক হইতে গৃহীত কোন ঋণের অর্থ বা উক্ত ঋণের কিস্তি পরিশােধে খেলাপী থাকেন;

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

উক্ত শর্ত বিধানের ব্যাখ্যা ৪-এ উল্লিখিত

(i) “ব্যাংক” বলিতে ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন)-এর ধারা ৫ (ণ) তে সংজ্ঞায়িত যে কোন ব্যাংক কোম্পানী ;

(ii) বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা আদেশ, ১৯৭২ (১৯৭২ সনের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১২৮) বলে গঠিত বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা ;

(iii) বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন আদেশ, ১৯৭৩ (১৯৭৩ সনের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৭) বলে গঠিত হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন;

(iv) দি ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬ (১৯৭৬ সনের ৪০ নং অর্ডিন্যান্স) বলে গঠিত ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ।

তাছাড়া দ্বিতীয় শর্ত বিধানের ব্যখ্যা-৫ এ উল্লেখ আছে যে, কোন ব্যক্তি বা কোন কোম্পানী বা কোন ফার্ম দ্বিতীয় শর্তাংশের উল্লিখিত কোন ঋণ বা উহার কিস্তি পরিশােধে খেলাপী বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি তিনি বা উহা ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৯ নং আইন)-এর ধারা ৫(গগ) এ সজ্ঞায়িত “খেলাপী ঋণ গ্রহীতা”-এর অর্থে খেলাপী হন বা হয়।

[Representation of the People (Amendment) Ordinance, 2001 (অধ্যাদেশ নং ১, ২০০১) জারী হওয়ার প্রেক্ষিতে নতুন বিধান]।

এতদ্ব্যতীত যেহেতু অধ্যাদেশ ১/২০০১-এর মাধ্যমে এসংক্রান্ত বিধান সংশােধন করা হইয়াছে সেহেতু প্রার্থীর যােগ্যতা, অযােগ্যতার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে সংশােধনীসহ এই সংক্রান্ত আইনের বিধানসমূহ ভালভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিতে হইবে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

বৈধভাবে মনােনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ

আদেশের ১৫ অনুচ্ছেদ এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ১৯৭২-এর ৬ বিধি অনুসারে মনােনয়নপত্র বাছাইয়ের পর যে সকল প্রার্থীর মনােনয়নপত্র গৃহীত হইবে রিটার্নিং অফিসার তাহাদের বিবরণী নির্ধারিত ৪ নং ফরমে বৈধভাবে মনােনীত প্রার্থীর তালিকায় সন্নিবেশিত করিয়া প্রকাশ করিবেন।

প্রকাশিত তালিকা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণীয় স্থানে টাঙ্গাইয়া জারী করিতে হইবে এবং উক্ত তালিকার একটি অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও প্রেরণ করিতে হইবে।

স্মরণ রাখিতে হইবে যে, মনােনয়নপত্র বাতিল হইলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করিতে পারিবেন। আপীল গৃহীত হইলে রিটার্নিং অফিসারকে সংশ্লিষ্ট গৃহীত আপীল অনুসারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম বৈধভাবে মনােনীত প্রার্থীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া সংশােধিত বৈধভাবে মনােনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করিতে হইবে এবং সংশােধিত তালিকার একটি কপি নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করিতে হইবে।

আপীল

(১) রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক যদি আদেশের ১৪ অনুচ্ছেদের (৫) দফা অনুসারে কোন মনােনয়নপত্র বাতিল ঘােষিত হয় তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ১৯৭২-এর ৫ বিধি অনুসারে মনােনয়নপত্র বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে প্রার্থী স্বয়ং অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির দ্বারা মনােনয়নপত্র বাতিল আদেশের পর ৩ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করিয়া নির্বাচন কমিশন

সচিবালয়-এর সচিব বরাবরে বিধিতে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে আপীল মেমােরেণ্ডাম আকারে ৫ কপি দাখিল করিতে হইবে। উক্ত আপীলে মনােনয়নপত্র বাতিলের তারিখ ও আপীলের কারণাবলী বর্ণনা করিতে হইবে এবং মনােনয়নপত্র বাতিল আদেশের সত্যায়িত কপি সংযােজন করিতে হইবে।

(২) যদি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আপীল গৃহীত হয় তবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে বৈধভাবে মনােনীত প্রার্থীর তালিকা সংশােধন করিয়া কমিশন কর্তৃক গৃহীত আপীলকারীর নাম বৈধভাবে মনােনীত প্রার্থীর তালিকায় সন্নিবেশিত করিতে হইবে এবং সংশােধিত তালিকা প্রকাশ করিতে হইবে। উল্লেখ্য যে, মনােনয়নপত্র বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপীল থাকিলেও উহা গ্রহণের বিরুদ্ধে কোন আপীল নাই।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

প্রার্থীপদ প্রত্যাহার

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১৬ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে যে কোন বৈধভাবে মনােনীত প্রার্থী লিখিত এবং দস্তখতকৃত নােটিশের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ সময়-সীমার মধ্যে অথবা তৎপূর্বে তাহার প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করিতে পারিবেন।

তবে উক্ত প্রত্যাহারের নােটিশ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে অথবা তাঁহার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের জন্য নির্দিষ্ট শেষ দিনে অথবা তৎপূর্বে রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল করিতে হইবে। প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের নােটিশ প্রদানের ব্যাপারে যদি উল্লিখিত শর্তসমূহ যথাযথভাবে পালিত না হয় তাহা হইলে উক্ত নােটিশ কোনক্রমেই গ্রহণ করা চলিবে না।

প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের নােটিশ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে যদি রিটার্নিং অফিসার সম্ভষ্ট হন যে দস্তখত সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর তবে রিটার্নিং অফিসার উক্ত নােটিশের একটি অনুলিপি তাহার কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণীয় স্থানে টাঙ্গাইয়া জারী করিবেন।

প্রার্থীর মৃত্যুবরণ

যদি কোন বৈধভাবে মনােনীত প্রার্থী যিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেন নাই এবং মৃত্যুবরণ করেন তাহা হইলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১৭(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে রিটার্নিং অফিসারকে গণ-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল করিতে হইবে। এইরূপ ক্ষেত্রে গৃহীত ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনকে জানাইতে হইবে।

রিটার্নিং অফিসারের নিকট হইতে এরূপ সংবাদ প্রাপ্তির পর নির্বাচন কমিশনকে পুনরায় নির্বাচনী সময়সূচী জারী করিতে হইবে। ইহার পরিপ্রেক্ষিতে রিটার্নিং অফিসারকে পুনরায় গণ-বিজ্ঞপ্তি জারী করিয়া মনােনয়নপত্র গ্রহণ, মননানয়নপত্র বাছাই, প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ তারিখ এবং ভােট গ্রহণের তারিখ উল্লেখ করিয়া গণ-বিজ্ঞপ্তি জারী করিতে হইবে এবং সেই সঙ্গে প্রয়ােজনীয় কার্যক্রম চালাইতে হইবে।

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ বাতিলকৃত নির্বাচনী সময়সূচীতে যাহারা মনােনয়নপত্র দাখিল করিয়াছেন তাহাদিগকে নতুন করিয়া মনােনয়নপত্র দাখিল করিতে হইবে না এবং জামানতের অর্থও জমা দিতে হইবে না।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

নির্বাচনী কার্যক্রম মুলতবীকরণ

আদেশের ১৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন অপ্রত্যাশিত কারণে রিটার্নিং অফিসার যদি মনােনয়নপত্র গ্রহণ, বাছাই ও প্রার্থীপদ প্রত্যাহার সম্পর্কিত কাজ নির্দিষ্ট দিনে সম্পাদন করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে তিনি করণীয় কর্ম মুলতবী রাখিতে পারিবেন।

পরবর্তীতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, কমিশনের অনুমােদনক্রমে মুলতবী ঘঘাষিত কাজের জন্য নূতন করিয়া দিন রিটার্নিং অফিসারকে ধার্য করিতে হইবে।

বিনা প্রতিদ্বন্দিতামূলক নির্বাচন

আদেশের ১৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে মনােনয়নপত্র বাছাইয়ের পর মনােনয়নপত্র বাতিলের ফলে যদি কোন নির্বাচনী এলাকায় বৈধভাবে মনােনীত মাত্র একজন প্রার্থী হয়, অথবা আদেশের ১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের সময়সীমা উত্তীর্ণ হইবার পর কেবলমাত্র একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হন তবে রিটার্নিং অফিসার তাহাকে আদেশের ১৯ ধারা অনুসারে গণ-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উক্ত নির্বাচনী এলাকার সদস্য হিসাবে নির্বাচিত ঘােষণা করিতে পারিবেন।

সম্ভাব্য জটিলতা এড়াইবার জন্য প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন গত হইবার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘােষণা করা যাইবে এবং ঘােষণার পর আদেশের ১৯ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের নিকট একটি রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।

তবে শর্ত থাকে যে, মনােনয়নপত্র বাছাইয়ের পর যদি কোন ব্যক্তির মনােনয়নপত্র বাতিল হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থী মনােনয়নপত্র বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করিবার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন,

সেক্ষেত্রে আপীল দায়েরের সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থী আপীল দায়ের করিতেছে কিনা এবং আপীল দায়ের করিলে দায়েরকৃত আপীল গৃহীত না হইলে তাহা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে জানিবার পর রিটার্নিং অফিসার একমাত্র বৈধভাবে মনােনীত প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘােষণা করিতে পারিবেন।

যদি দায়েরকৃত আপীল গৃহীত হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রার্থীর নাম বৈধভাবে মনােনীত প্রার্থীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করিতে হইবে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ

আদেশ, ১৯৭২-এর ২০ অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের পর যদি কোন নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীর সংখ্যা একাধিক হয় তাহা হইলে রিটার্নিং অফিসার, কমিশনের নির্দেশ সাপেক্ষে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ১৯৭২এর ৯ বিধিতে নির্ধারিত প্রতীকসমূহ হইতে প্রত্যেক প্রার্থীর অনুকূলে নিম্নরূপভাবে একটি করিয়া প্রতীক বরাদ্দ করিবেন।

প্রতীক বরাদ্দের পদ্ধতি

(ক) কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনােনীত কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ক্ষেত্রে কমিশনকৃত এই আদেশ বা বিধিমালার অধীন ঐ দলের জন্য সংরক্ষিত প্রতীক বরাদ্দ করিবেন;

(কক) অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণের ক্ষেত্রে কমিশনের কোন নির্দেশ সাপেক্ষে, প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোন প্রতীক বরাদ্দ করিবেন; এবং ইহা করিবার সময় তিনি, যতদূর সম্ভব, কোন প্রার্থী কর্তৃক প্রকাশিত পছন্দের প্রতি নজর দিবেন;

(খ) কমিশন যেভাবে নির্দেশ দিবেন সেইভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণের নাম বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজাইয়া তাহাদের প্রত্যেকের বিপরীতে বরাদ্দকৃত প্রতীক সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করিয়া প্রকাশ করিবেন;

তবে শর্ত থাকে যে, অনুচ্ছেদ ১১-এর দফা (১)-এর অধীন প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হইবার পর তিন দিনের মধ্যে উহার নিকট এতদুদ্দেশ্যে পেশকৃত কোন দরখাস্তে, কোন অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীগণকে বা দুই বা ততােধিক সংযুক্ত রাজনৈতিক দলের কাহারাে নির্বাচনের জন্য যুক্ত প্রার্থী মনােনয়নে সম্মত হইয়াছেন, প্রার্থীগণকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোন প্রতীক বরাদ্দ করিতে পারিবেন;

আরও শর্ত থাকে যে, দুই বা ততােধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংযুক্তির ক্ষেত্রে, যাহার সহিত এক বা একাধিক অনিবন্ধিত দলও যােগদান করিয়া থাকিতে পারেন।

কমিশন, অনুরূপ দরখাস্তে, উহাদের যে কোন দলের জন্য সংরক্ষিত প্রতীক, দরখাস্তে প্রকাশিত পছন্দ অনুসারে, অথবা সংযুক্ত দলসমূহ তেমন ইচ্ছা করিলে, অন্য যে কোন বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রতীক সংযুক্ত দলসমূহের প্রার্থীগণের জন্য বরাদ্দ করিবেন,

আরও শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক দল যাহার জন্য এই আদেশ বা বিধিমালার অধীন কমিশন কর্তৃক কোন প্রতীক সংরক্ষিত করা হইয়াছে বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী উপ-দলে বিভক্ত হইয়া যায় এবং যাহাদের প্রত্যেকেই যে দলের জন্য উক্ত প্রতীক সংরক্ষিত করা হইয়াছে এবং মূলদল বলিয়া দাবী করেন এবং

উহার জন্য প্রত্যেকটি সংরক্ষণের জন্যও দাবী জানান, সেইক্ষেত্রে বিবরণ সিদ্ধান্তের জন্য কমিশনের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে, এবং ইহার উপর প্রতিদ্বন্দ্বী উপ-দলগুলিকে যুক্তিসঙ্গত শুনানীর সুযােগ প্রদান করিয়া প্রদত্ত, কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

(৩) রিটার্নিং অফিসার প্রত্যেক ভােটকেন্দ্রে প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম ও প্রতীক লক্ষণীয়ভাবে প্রদর্শন করিবার ব্যবস্থা করিবেন।

(৪) আদেশের ১৬ অনুচ্ছেদের (৪) দফা এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ১৯৭২-এর ৭ বিধি অনুসারে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের সময়সীমা যেদিন শেষ হইবে তাহার পরবর্তী দিন নির্ধারিত ৫ নং ফরমে রিটার্নিং অফিসার তাহার আওতাধীন প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার জন্য বাংলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করিবেন।

উক্ত তালিকায় প্রার্থীদের নাম (মনােনয়নপত্রে যে রূপ লেখা থাকিবে) বাংলা ভাষায় বর্ণানুক্রমে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং তাঁহাদের প্রত্যেকের নামের বিপরীতে ঠিকানা ও প্রতীক উল্লেখ থাকিবে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

কাজেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়ন করিবার পূর্বেই প্রতীক বরাদ্দের কাজ শেষ করিতে হইবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকার নির্দিষ্ট স্থানে ভােটগ্রহণের দিন এবং সময় উল্লেখ করিতে হইবে। ভােটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনে সকাল ৮টা হইতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভােটগ্রহণের কাজ চলিবে।

(৫) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়নের পর উহার এক কপি রিটার্নিং অফিসার তাঁহার অফিসের দৃষ্টি আকর্ষণীয় স্থানে টাঙ্গাইয়া দিবেন। উক্ত তালিকার এক কপি ৭(৩) বিধি অনুযায়ী প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অথবা তাহার নির্বাচনী এজেন্টকে প্রদান করিতে হইবে।

এতভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকার দুই কপি পরিষ্কাররূপে তৈরী হইতে হইবে (যেমন পড়িতে কোন অসুবিধা না হয়) এবং বিশেষ বার্তাবাহক মারফত কমিশন কর্তৃক ধার্যকৃত সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পৌছাইতে হইবে। এ ব্যাপারে যেন কোন রকম হেরফের না হয়।

(৬) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা নির্ভুলভাবে প্রণয়ন করিতে হইবে। কারণ তালিকায় ভুল তথ্য পরিবেশিত হইলে মুদ্রিত ব্যালট পেপারে উহার প্রতিফলন ঘটিবে, যাহার পরিণতি মারাত্মক হইবে।

মনােনয়নপত্র দাখিল, বাছাই এবং প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের তথ্য বিবরণী প্রেরণ

মনােনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা উত্তীর্ণ হইবার পর রিটার্নিং অফিসারকে তাঁহার আওতাধীন কোন নির্বাচনী এলাকায় কতজন প্রার্থী মনােনয়নপত্র দাখিল করিয়াছেন তাহার সংখ্যা ও নাম, পিতার নাম এবং বিস্তারিত ঠিকানা এই কমিশন সচিবালয়কে টেলিফোন/ফ্যাক্স-এর মাধ্যমে জানাইতে হইবে।

অনুরূপভাবে মনােনয়নপত্র বাছাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর পরই কোন নির্বাচনী এলাকায় কত জনের মনােনয়নপত্র বাতিল হইয়াছে তাহাদের সংখ্যা এবং নাম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে জানাইতে হইবে।

প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের সময়সীমা অতিক্রান্ত হইবার পর কোন নির্বাচনী এলাকায় কতজন প্রার্থী মনােনয়নপত্র প্রত্যাহার করিয়াছেন তাহাদের নামও কমিশন সচিবালয়কে জানাইতে হইবে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়সূচী জারী এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুসরণীয় এবং করণীয় দায়িত্বাবলী

ভােটগ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ২৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রহিয়াছে যে, রিটার্নিং অফিসার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ সাপেক্ষে, ভােটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করিয়া গণবিজ্ঞপ্তি জারী করিবেন।

অতএব নির্বাচন কমিশন যে সময়কালে ভােটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হইবে সেই অনুসারে রিটার্নিং অফিসার ভােটগ্রহণের দিন এবং ভােটগ্রহণের সময়কাল নির্ধারণ করিয়া দিবেন।

ভােটগ্রহণকারী কর্মকর্তা নিয়ােগ এবং প্রশিক্ষণ: এই তথ্যটি কোনো প্রকার ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয় বরং জনগণের কল্যাণে বহুল প্রচারের লক্ষ্যে অধ্যয়ন ডট কম এর পাঠকদের সুবিদার্থে প্রকাশ করা হয়েছে। এটি সরাসরি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর সূত্র থেকে সংগৃহিত। এতে কারও কোনো আপত্তি থাকলে রিমুভ করার অনুরোধ করতে পারেন: [email protected] অথবা সরাসরি আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 

অধ্যয়ন ডট কম এর সকল আপডেট সবার আগে পাওয়ার জন্য আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক ও ফলো রাখুন এবং ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। প্রতিদিন শিক্ষা সংক্রান্ত সকল তথ্য পেতে আমাদের দৈনিক শিক্ষা ক্যাটাগরি দেখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: এই কনটেন্ট কপি করা যাবেনা! অন্য কোনো উপায়ে কপি করা থেকে বিরত থাকুন!!!