জমিদার বাড়ি সম্পর্কে কথোপকথন

চলো এবার কোনো একজন বন্ধুর সাথে এলাকার কোনো জমিদার বাড়ি সম্পর্কে কথোপকথন করা যাক। এখানে আমরা দু’জন বন্ধুর সাথে তার এলাকার বিশেষ জমিদার বাড়ি সম্পর্কে জানবো এবং কথোপকথন করবো।

যেহেতু একটা সময় জমিদারগণ আমাদের দেশকে শাসন করবো তাই তারা বসবাসের জন্য বিভিন্ন এলাকায় নান্দনিক ইতিহাস ঐতিহ্যে ভরপুর বাড়ি নির্মাণ করেছিল। জমিদারগণ বিলুপ্ত হয়ে গেলেও এখনো রয়ে গেছে তাদের বসতবাড়ি যেগুলো কালের স্বাক্ষী হয়ে ইতিহাস নিয়ে দাড়িয়ে আছে।

গত আলোচনায় আমরা বড়দিঘী সম্পর্কে ৪০০ শব্দের কথোপকথন (Dialogue) নমুনা নিয়ে লিখেছি। মিস করলে এখনি দেখে নাও। পরীক্ষায় এটি অনেক কাজে আসবে।

জমিদার বাড়ি

এই জমিদার বাড়ি গুলো দেখতে যেমন সুন্দর ও আকর্ষনীয় ঐতিহ্যের দিক থেকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জমিদারগণ তাদের বসবাসের জন্য তৈরি করেছিলেন বিভিন্ন ধরণের বাড়ি। এই বাড়িগুলো আজও অনেক আকর্ষনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ।

৬ষ্ঠ শ্রেণির প্রথম ষাণ্মানিক সামষ্টিক মূল্যায়ন ২০২৩ এর ভাষা ও সাহিত্য উৎসব দিনের অ্যাসাইনমেন্টসমূহের মধ্যে বিষয় গুচ্ছ-১ এর খ নং কাজটি হলো কোনো একটি জমিদার বাড়ি সম্পর্কে কথোপকথন করে পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরা। এটি করতে গিয়ে ভাষায় শব্দ, বাক্য ও যতি চিহ্নের ব্যবহার যথাযথভাবে করতে হবে।

জমিদার বাড়ি সম্পর্কে কথোপকথন

জমিদার বাড়ি সম্পর্কে কথোপকথন

এখানে আমরা ষষ্ঠ শ্রেণীর দুইজন শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ এবং জান্নাত এর মধ্যে তাদের এলাকায় জমিদার বাড়ি নিয়ে ৪০০ শব্দের একটি কথোপকথন দেখব। এলাকার জমিদার বাড়ি নিয়ে আলোচনাটিতে স্থান পাবে পর্যবেক্ষণ, মতামত, অনুভূতি বা জমিদার বাড়ির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য সমূহ। 

তোমরা মনোযোগ দিয়ে কথোপকথন টি পড়বে এবং তোমার এলাকায় বিশেষ কোনো স্থাপনা নিয়ে কথোপকথন প্রস্তুত করে শিক্ষকের নিকট জমা দিবে।

আবদুল্লাহ: হে জান্নাত, তুমি কি ঐতিহ্যবাহী লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি সম্পর্কে শুনেছো? আমি গতকালকেই এটি সম্পর্কে শুনলাম। আমার মনে হয় এটি আমাদের দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্বলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। 

জান্নাত: হ্যাঁ, আমিও এটি সম্পর্কে শুনেছি! এটি কে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমি এই জমিদার বাড়ি টির সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। তুমি কি জানো এটা কোথায় অবস্থিত? 

আবদুল্লাহ: হ্যাঁ, লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি টি নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় অবস্থিত। জায়গাটির নাম ডাঙ্গা। এটি উকিল বাড়ি এবং ডাঙ্গা জমিদার বাড়ি নামেও পরিচিত। নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলা থেকে খুব সহজেই এটিতে যাওয়া যায়। 

জান্নাত: এটাতো আসলে বেশি দূরে নয়! তুমি কি জানো কোন বিষয়টি লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়িকে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে? 

আবদুল্লাহ: হুম, জমিদার লক্ষণ সাহা এই জমিদার বংশের মূল গোড়াপত্তনকারী। তবে কবে নাগাদ এই জমিদার বংশ এবং জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানা যায়নি। লক্ষণ সাহার তিন পুত্র সন্তান ছিল। এদের মধ্যে ছোট ছেলে ভারত ভাগের সময় ভারতে চলে যান। এরপর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অল্প কিছুদিন আগে বড় ছেলেও ভারতে চলে যান। থেকে যান মেঝো ছেলে। তার ছিল এক পুত্র সন্তান। যার নাম ছিল বৌদ্ধ নারায়ণ সাহা। এই বৌদ্ধ নারায়ণ সাহাই পরবর্তীতে আহম্মদ আলী উকিলের কাছে উক্ত বাড়িটি বিক্রি করে দেন। তাই আহম্মদ আলী সাহেব পেশায় একজন উকিল হওয়াতে বর্তমানে অনেকে এই বাড়িটিকে উকিল বাড়ি নামেও চিনে।

জান্নাত: শুনতে ভালই লাগছিল! ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং নিদর্শন এ আমার প্রবল আগ্রহ আছে। আমরা কি সেখানে কোন ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম বা প্রদর্শনী দেখতে পাব? 

আবদুল্লাহ: নিঃসন্দেহে! ইট,  সুরকি,  রড, লাইন মর্টার,  এবং লাল মোজাইক দিয়ে দোতলা জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল।  এর কক্ষসংখ্যা ১১ টি। এটি ঔপনিবেশিক এবং মুঘল শৈলীর মিশ্রণ স্থাপত্য রীতিতে তৈরি। ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্বলিত বিভিন্ন স্থাপত্য শিল্প এবং নিদর্শন পাওয়া যাবে এখানে। 

জান্নাত: এটাতো তথ্যের ভান্ডারের মতো শোনাচ্ছে! ঐতিহ্যবাহী কারোর শিল্প এবং স্থাপত্য শিল্পে আমার প্রবল আগ্রহ রয়েছে।  লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়িটি আরো কাছ থেকে দেখতে পারলে অনেক তথ্য জানা যাবে। 

আবদুল্লাহ: হ্যাঁ, সেখানে গেলে দেশে জমিদারদের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে থাকা গাইড বই এবং গাইডম্যান এর মাধ্যমে এ সকল তথ্য আরো সহজ ভাবে বোঝা সম্ভব হবে। 

জান্নাত: চমৎকার! লক্ষণ সহ জমিদার বাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত জানে এরকম গাইডমেন্ট পেলে আমাদের অভিজ্ঞতা আরও দারুন হবে। এখানে প্রবেশের কি কোন ফি রয়েছে? 

আবদুল্লাহ: হ্যাঁ, লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়িতে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত ফ্রি রয়েছে কিন্তু এই মুহূর্তে সংখ্যাটি আমার জানা নেই। সকাল ৯ টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত এটি দশনা থেকে জন্য খোলা থাকে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিন বন্ধ থাকে। 

জান্নাত: বিষয়টি আমাকে জানানোর জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি সেই অনুযায়ী ভ্রমণের পরিকল্পনা করবো এবং ঐতিহাসিক লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়িটি স্বচক্ষে দেখব। সম্ভব হলে তুমি আমাদের সাথে যেও। 

আবদুল্লাহ: তোমাকে স্বাগতম,  জান্নাত! ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িটি দেখার জন্য আমিও উদগীব হয়ে আছি। তোমরা যখন যাওয়ার পরিকল্পনা করবে অবশ্যই আমাকে জানাবে। 

জান্নাত: অবশ্যই, আব্দুল্লাহ! যাওয়ার সময় অবশ্যই তোমাকে নিয়ে যাব। আমি নিশ্চিত এই ভ্রমণটি আমাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ক. জমিদার বাড়ি সম্পর্কে কথোপকথনে বিভিন্ন শ্রেণির শব্দের ব্যবহার

শব্দের শ্রেণিব্যবহৃত শব্দ
বিশেষ্যলক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি, ভারত, বৌদ্ধ নারায়ণ;
সর্বনামএটি, তোমরা, তার;
বিশেষণগুরুত্বপূর্ণ, মিশ্রণ, দারুন
ক্রিয়াগোড়াপত্তন, প্রতিষ্ঠিত, চলে যান, বিক্রি করা

খ. কথোপকথনে বিভিন্ন শ্রেণির বাক্য ব্যবহার

বাক্যের শ্রেণিব্যবহৃত বাক্য
১. বিবৃতিবাচক বাক্যআকাশের নীল রং পানিতে প্রতিফলিত হয়ে খুব সুন্দর একটি আবহাওয়া তৈরি করে।
২. প্রশ্নবাচক বাক্যওই জায়গা সম্পর্কে তোমার মতামত কি?
৩. আবেগবাচক বাক্যখুবই চমৎকার!

গ. যেসকল যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে

এখানে যেসকল যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে- ১. দাড়িঁ (।), ২. কমা (,), ৩. সেমিকোলন (;), ৪. বিস্ময়চিহ্ন (!), ৫. প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?)

ঘ. কথোপকথনে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দের প্রতিশব্দ ও বিপরীত শব্দ

ব্যবহৃত শব্দপ্রতিশব্দবিপরীত শব্দ
স্বচ্ছপরিচ্ছন্নঘোলাটে
অবসরকর্মহীনব্যস্ত
সহজঅনায়েসেকঠিন

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা এই ছিল তোমাদের জন্য জমিদার বাড়ি সম্পর্কে ৪০০ শব্দের একটি কথোপকথন।  এই কথোপকথনের আলোকে তোমার এলাকায় অবস্থিত কোন জমিদার বাড়ি বা ঐতিহাসিক স্থাপনা সম্পর্কে কথোপকথন প্রস্তুত করে ভাষা ও সাহিত্য উৎসবের দিন শিক্ষকের নিকট জমা দেওয়া।

এরপর আমরা শীতকালীন মেলা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি কথোপকথন আলোচনা করব তোমরা যারা সবার আগে সেটি পেতে চাও আমাদের ফেসবুক গ্রুপে যোগ দাও এবং ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। 

আমরা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিষয়গুলোর উপর কথোপকথন প্রস্তুত করছি তোমরা নিজের কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের উপর ক্লিক করে সেটির উপর কথোপকথন টি দেখে নিতে পারো।

এছাড়াও সকল বিষয়ের নমুনা উত্তর সমূহ পাওয়ার জন্য আমাদের ফেসবুক গ্রুপ জয়েন করে নাও ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করো এবং ফেসবুক পেজটি লাইক এবং ফলো করে রাখুন। তোমার বন্ধুকে বিষয়টি জানানোর জন্য আমাদের ওয়েবসাইটটি তার খাতায় নোট করে দিতে পারো।

6 thoughts on “জমিদার বাড়ি সম্পর্কে কথোপকথন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: এই কনটেন্ট কপি করা যাবেনা! অন্য কোনো উপায়ে কপি করা থেকে বিরত থাকুন!!!